রায়হান ফাইয—এর গুচ্ছ কবিতা

রায়হান ফাইয—এর গুচ্ছ কবিতা

১. দূর আরবে

কল্পনা চোখ – নেত্র পলক
মাথায় কী ঘোরে ফেরে রাজদরবার
কখনো মরু কখনো পাহাড়।
ভাবনাতে ‘সায়ী’ করি মারওয়া–সাফা
যেন কী সহজ পাঠ করছি বসে–
‘সিরতু মিনাল বুসরাতি ইলাল কুফা’।
বাড়ছে হৃদয়ে মরুর তিয়াস
কত দূর বলো হারিরি–জারির!
আহার যোগাও হে ইবনে হিশাম
আমি যে বেহদ্দ ক্লান্ত মুসাফির।
দিল ছটফট কলিজা টাটায়
মন যেতে চায় দূর মদিনায়,
দাও বলে দাও প্রেম ইশারায়
কোথা সেই মরুপথ?
কোথা শুয়ে আছে আমার প্রাণের
নবীজি মুহাম্মদ?

২. গোরস্থানের ডাক

দুনিয়ার তরে মত্ত হয়ে
বিলাসী বরফ চাটা
সময় খোয়াতে ব্যস্ত দ্যাখো
জীবন ঘড়ির কাটা।
শৈশবে তো ভালোই ছিলাম
কৈশোর-ও গেলো ছেড়ে
যৌবনে এসে কিই-বা পেলাম
বয়সটা গেলো বেড়ে।
চামড়ার ভাজ–বয়সের সাজ
বিদায়ের হালচাল
ভাবেনি তো মন মিছে এ ভুবন
থাকবে বা কতকাল।
চারিদিকে কত উদাস মানব
উদাস পাখির ঝাঁক
জেনেছি কেউ আসবে কখন
গোরস্থানের ডাক?

৩. প্রশান্তি

সুখ তালাশে হন্যে হয়ে
ঘুরছে কত মানুষ
ভুলে বসেছে সাধের ভুবন
উড়ন্ত এক ফানুস।
ব্যথা বেদনায় গুমড়ে কাঁদো
বিরহ বিষাদ বুকে
বিষন্নতার গুমোট আঁধারে
মরছো ধুকে ধুকে।
পেতে যদি চাও সুখের দেখা
জপো আল্লার নাম
ওপারে তোমার হতে পারে ঠাঁই
পেতে পারো কিছু দাম।
ভালো কথা কেন আমলে নাও না
থাকো কেন বসে চুপ!
‘আলা–বিযিকরিল্লাহি
তাতমাইন্নুল ক্বুলুব’।

৪. নাবালক মন

চাঁদের হাসিতে ছলনা থাকিলে
মেঘেদের দোষ কিসে!
অভিনয়ে মন ভগ্ন হবেই
হৃদয়ের নিশপিশে।

জীবনের ঘাটে নৌকো ভিড়েছে
নদীও যাচ্ছে বয়ে
শুকনো পাতারা ধরিয়াছে ভান
দুঃখ পাবার ভয়ে।

কাঠফাঁটা রোদ পুড়ছে বিবেক
উপরে অনল জ্বলে
ঠান্ডা পানীয় তবে কি আমায়
শান্তির কথা বলে!

নাবালক মন বুঝতে শেখেনি
ঘোরে প্রেমিকার দ্বারে
নাই নাই বলে দিন কেটে যায়
অভাবের সংসারে।

৫. একাকিত্বের সুখ

মানুষের মনে খুব গোপনে
যারা করে বসবাস
তাদের মাঝেই গড়ে ওঠে তার
আজন্ম বিশ্বাস।

প্রয়োজন শেষে দূরে চলে যায়
ছেড়ে চলে যায় সবে
কারে তুমি খোঁজো! কে তোমায় বোঝে!
থাকো কার অনুভবে?

যেই ছেলেটা ছাদের কোনে
চুপচাপ বসে থাকে
সেই ছেলেটা বুকের জমানো
গল্প বলবে কাকে?

যারা যাবে যাক নিজেকে লুকাক
তাতে কিবা আসে যায়
কেউ থাকবে না ছিল তা লেখা
হৃদয়ের ‘হাশিয়ায়’।

সঙ্গী হও হে বিষাদের দল
মিছিল কর বুকে
আমার মতো কে আছে বলো
একাকিত্বের সুখে!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *