রিমান্ডে একটু পানিও দেয়নি পুলিশ : মিন্নির মা

রিমান্ডে একটু পানিও দেয়নি পুলিশ : মিন্নির মা

রিমান্ডে একটু পানিও দেয়নি পুলিশ : মিন্নির মা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আলোচিত বরগুনার ঘটনায় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে ভয়াবহ শীরীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন তা মা জিনাত জাহান। তিনি বলেন, পুলিশ লাইনে একটি কক্ষে এ এস আই রিতার নেতৃত্বে ৪-৫ জন পুলিশ তাকে শারীরিক নির্যাতন করেছে, মারধর করেছে। এ সময় পানি পান করতে চাইলে তাকে পানিও পান করতে দেওয়া হয়নি।

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার (৪ আগস্ট) মা, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা কারাগারে সাক্ষাৎ করতে গেলে মিন্নি তাদের কাছে এমন অভিযোগ করেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে এ এস আই রিতার নেতৃত্বে নির্যাতন চালানোর বর্ণনাও দিয়েছেন নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নি।

মেয়ের মুখ থেকে শোনা নির্যাতনের ঘটনা সাংবাদিকদের বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিন্নির মা জিনাত জাহান।

এ সময় মিন্নির মা জানান, মিন্নির বাবাকে আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি গিয়ে পুলিশ খুঁজছে।

নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথাও সাংবাদিকদের জানান মিন্নির মা। মিন্নির সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার পরিবারের সদস্যরা জেল গেটে সাংবাদিকদের জানান, রোববার কারাগারে পরিদর্শনে এসে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ মিন্নির খোঁজখবর নেন। পুলিশ কীভাবে নির্যাতন চালিয়েছে, জেলা প্রশাসকের কাছে মিন্নি তা তুলে ধরেছেন। মিন্নির মা জিনাত জাহান মনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়ে আমাকে বলেছে, ১৬ জুলাই পুলিশ মিন্নিকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে ১২-১৩ ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়।

মিন্নির বরাত দিয়ে তার মা জানায়, গ্রেফতার দেখানোর পরে রাতে পানির সঙ্গে ইয়াবা ট্যাবলেট মিশিয়ে তাকে পানি খেতে দেওয়া হয় বলে মিন্নি আমাদের বলেছে। একটি সাদা কাগজে লিখিত বক্তব্য দিয়ে তাকে মুখস্থ করতে পুলিশ বার বার চাপ দিয়েছে। যতক্ষণ মুখস্থ বলতে না পেরেছে ততক্ষণ পর্যন্ত রিতা ও তার সহযোগীরা তাকে নির্যাতন করে। পুলিশ মিন্নিকে ভয় দেখিয়ে বলে লিখিত বক্তব্য আদালতে না বললে তার বাবা-মা ও চাচাদের ধরে আনা হবে।

রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করলেও, নির্যাতন করে সেই জবানবন্দি দিতে পুলিশ বাধ্য করেছে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহার চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন মিন্নি।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন (বুধবার) প্রকাশ্যে দিবালোকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড গ্রুপ ধারালো রামদা দিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। পরে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *