রূহ্ নষ্ট হলে সব নষ্ট
মুস্তাফা জামান আব্বাসী : আলাহ্ তা’য়ালা তাঁর ইবাদত করাকে মানুষের উপর ওয়াজিব করেছেন অথবা মুস্তাহাব করেছেন। এমতাবস্থায় যদি তার ইবাদতকে অন্যের জন্যে ঈসার করেন, তা হলে ঐ ব্যক্তি ওয়াজিব বা মুস্তাহাবকে পরিত্যাগ করে অন্যের উপর তার ভার অন্যের উপর করে দেয় এবং নিজকে ঐ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেয়। এমতাবস্থায় ইবাদতের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই বানচাল হয়ে যায়। কেউ যদি নিজে ইবাদত করে এবং তার সাওয়াব অন্যকে বকসে দেয়, তা হলে তাতে অসুবিধার কিছু নেই।
আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলেছেন: ‘তোমরা অগ্রণী হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের প্রয়াসে, যার প্রশস্ততা আকাশ ও পৃথিবীর মত, যা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ্ ও রসুলগণের বিশ্বাসীদের জন্যে। এটাই আল্লাহ্র অনুগ্রহ। যাকে ইচ্ছা তিনি এটা দান করেন, আল্লাহ্ মহা অনুগ্রহশীল’ [৫৭:২১]।
আল্লাহ্ আরও বলছেন, ‘তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা কর। তোমরা যেখানে থাক না কেন, আল্লাহ্ তোমাদের সকলকে একত্র করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান’।
আরেকটি অনুধাবনযোগ্য কথা: ‘কোন বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবে না এবং মানুষ তাই পায় যা সে করে, তার কর্ম অচিরেই দেখান হবে। তারপর তাকে দেয়া হবে পূর্ণ প্রতিদান’ [৫৩:৩৮-৪১]।
আমাদের রূহ্ আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাকে সামলে রাখা আমাদের কাজ। আমাদের সবচে’ পবিত্র জিনিস কি? রূহ্। রূহ্ যদি নষ্ট হয়ে যায়, সব নষ্ট হয়ে গেল। তাই প্রতিটি দিনের প্রতি কাজ হতে হবে রূহে্র কল্যাণের জন্যে। যদি তা সম্ভব হয়, তা হলেই আল্লাহ্র ভালবাসা তার করায়ত্ব হবে। যদি বলি নূর, সেটাই আল্লাহ্র পরিচয়। নূরকে ধরে রাখা খুব সহজ। আবার তেমনি কঠিন।
নূরকে নিয়ে আমি সর্বক্ষণ চিন্তান্বিত। মস্জিদে গিয়ে যে মোমবাতি পাই, তা নূর নয়। আকাশে যে আতশবাজি নানা কারণে মানুষ ঘটিয়ে থাকে, তা নূর নয়। তা হলে কোনটা নূর? যখন একটি মানুষ আরেকটি ক্ষুধার্ত মানুষকে ক্ষুধা মিটিয়ে দেয়, তখন একটি নূর দেখা দেয় তার চোখে মুখে। সেটি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি। তা হলে আমি কি পেলাম? কারও মনে সন্তুষ্টি, সেখানে আল্লাহ্র নূরকে খুঁজে পেলাম। কোথাও তেলাওয়াত হচ্ছে। এক বৃদ্ধ নিবিষ্ট মনে আল্লাহ্র কালাম পাঠ করে চলেছেন, ওখানে আল্লাহ্র নূর আছে। আমি টের পেয়েছি। আপনিও পাবেন। সবাই পাবে।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ্কে তালাশ করুন। উনি সহজেই ধরা দেবেন। আপনার মন হবে আলোকিত। টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত মনকে আলোকিত করে না। আলোকিত করে সোহ্বত অর্থাৎ ভাললোকের সংস্পর্শ। আমরা তাদেরকে এড়িয়ে চলি। আমরাই হই ক্ষতিগ্রস্থ।
আমরা নিজের রূহ্কে নিয়ে কতটুকুই বা ভাবি? বলতে গেলে একদম ভাবি না। অথচ কত সহজেই তাকে পবিত্র রাখা যায়। আমাকে একজন জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমার মধ্যে সবচে’ পবিত্র কি? আমি বললাম, উত্তরটি আপনার কাছেই শুনতে চাই। বললাম, যখন আমার গান শুনে কারও আল্লাহ্র কথা মনে হয়, রসুল [সা]-এর জন্যে একফোটা পানি বেরিয়ে আসে, তখনই হয়ত আমি পবিত্রতার কাছাকাছি, তা না হলে নয়। যা কিছু স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে পবিত্র করে। আমার সারা ঘরে শুধু কুরআন আর কুরআন। তারা আমার ঘরকে পবিত্র করে।
আমার কম্পিউটার জুড়ে শুধু কুরআনের আলোচনা। আমার জায়নামাজে শুধু তার ইবাদত। আমি তাগুতকে ঘর থেকে বিতাড়ন করেছি সকাল-সন্ধ্যা। সে আসতে পারে না। চেষ্টা করে।
সবার উচিৎ নিজ রূহ্কে শান্ত রাখা। আল্লাহ্ সবসময় সাহায্য করবেন। এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।
মু. জা. আ.
১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৬


