রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিরাপত্তা ঝুঁকি

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিরাপত্তা ঝুঁকি

ওয়ার্ল্ড ডেস্ক ● বাংলাদেশে আশ্রয় শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান করার ফলে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি বলে সতর্ক করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। বৃহস্পতিবার তারা এই সতর্কতা উচ্চারণ করেছে। বলেছে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে উগ্রবাদে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা থেকে মিয়ানমারে আন্তঃসীমান্তে হামলা বাড়তে পারে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ৩০টি ক্যাম্পে হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)। এতে সেনা সদস্যসহ ১১ জন নিহত হন। এরপরই প্রতিশোধমুলক হামলা শুরু করে সেনারা। তাদের নৃশংসতা সব নীতিকে লঙ্ঘন করে। এতে বাধ্য হয়ে কমপক্ষে ৬ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

আইসিজি এক রিপোর্টে বলেছে, আরসা নতুন করে পুনর্গঠিত হতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই তারা ভবিষ্যতে অপারেশন চালানোর জন্য চোখ দিতে পারে আশ্রয় শিবিরগুলোতে। এখান থেকে সদস্য সংগ্রহ করতে পারে। এতে আরো বলা হয়, এক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশকে সদস্য সংগ্রহের ও প্রশিক্ষণের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এভাবে পুনর্গঠিত হয়ে তারা আন্তঃসীমান্ত হামলা চালাতে পারে। এ থেকে সহিংসতা আরো গভীরে চলে যাওয়ার বাস্তব ও বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এমন হামলা হলে তাতে নেতিবাচক প্রচাভ পড়বে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্কে। রোহিঙ্গাদের পরিণতি হবে আরো ভয়াবহ। ফলে আরো রোহিঙ্গা ফেরত আসতে পারে।

ওদিকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ থাকলেও মিয়ানমারের ভিতরে নেয়া হয়েছে কড়া প্রতিরক্ষামুলক ব্যবস্থা। আরসার উত্থানের পর সেখানে রোহিঙ্গা বিরোধী অবস্থান আরো কড়া হয়েছে। আরো একটি ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে আইসিজি। তারা বলেছে, মুসলিমবিশ্বের কাছে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা একটি চাঞ্চল্যের কারণ হয়ে উঠেছে। ওদিকে মিয়ানারে হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে আল কায়েদা, আইএস ও বিশ্বের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ।

অন্যদিকে সন্ত্রাসী ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের অভিযানের বৈধতা দাবি করছে বারবার। তবে এসব গ্রুপের থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখছে আরসা। তারা বলেছে, তারা শুধুর রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে। ওদিকে নৃশংসতার কারণে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছেই। এ সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে দমনপীড়ন চালানো হয়েছে তা গণহত্যা। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থিতিশীল প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান। ওদিকে দু’এক মাসের মধ্যে বৈধ রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তবে এ নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বলা হয়ছে, কত সংখ্যক রোহিঙ্গা নিজেদেরকে বৈধ প্রমাণ করতে পারবেন এবং ফিরে যেতে পারবেন রাখাইনে সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা যে এলাকাকে গ্রাস করেছে সেখানে কি তারা ফিরে যেতে চান কি না? এমন সব প্রশ্ন সামনে চলে আসছে। এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এসে দাঁড়িয়েছে মিয়ানমারের মিত্র চীন। তবে মিয়ানমারের ওপর টার্গেটেড অবরোধ দেয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে ওয়াশিংটনে। বুধবারও সেখানকার কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *