লাইলাতুল কদরের আমল

লাইলাতুল কদরের আমল

মুফতি রিয়াজুল ইসলাম : লাইলাতুল কদর নিয়ে ‘আলেমদের মাঝে বিভিন্ন অভিমত রয়েছে। ‘ফাত্হুল বারী’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে এ সংক্রান্ত অভিমত ৪০টির উপরে পৌঁছেছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সঠিক মত হল লাইলাতুল কদর রমজান মাসের শেষ দশকের কোনও এক বেজোড় রাত।

আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।”(সহীহ বুখারী  ও সহীহ মুসলিম)

এ রাতটি গোপন রাখার পেছনে রহস্য হল মুসলমানদেরকে রমজানের শেষ দশকের সবগুলো রাতে ‘ইবাদত-বন্দেগী, দোয়া ও যিকিরের উপর সক্রিয় রাখা। একই রহস্যের কারণে জুমার দিনের যে সময়টিতে দোয়া কবুল হয় তা সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি এবং একই কারণে আল্লাহর ঐ ৯৯ টি নাম সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি যে নামগুলোর ব্যাপারে নবী  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি  ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি নামগুলো গণনা করবে [অর্থাৎ মুখস্ত করবে, এর অর্থ বুঝবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে] সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”[সহীহ বুখারী (২৭৩৬) ও সহীহ মুসলিম (২৬৭৭)]

আল্লামা ইবনে হাজর রহঃ বলেন; ‘আলেমগণ বলেন, এই রাতটির নির্দিষ্ট তারিখ গোপন রাখার পিছনে হিকমত হল মানুষ যেন এ রাতের মর্যাদা লাভের জন্য চেষ্টা সাধনা করে। নির্দিষ্ট তারিখ জানা থাকলে মানুষ শুধু নির্দিষ্টভাবে সেই রাতে ইবাদত-বন্দেগী করত। একই ধরনের ব্যাখ্যা জুমার দিনের (দোয়া কবুলের) সুনির্দিষ্ট সময় গোপন রাখার ব্যাপারে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।” [ফাত্হুল বারী (৪/২৬৬)]

পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, কারও পক্ষে নির্দিষ্ট কোনও রাতের ব্যাপারে এ নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয় যে, এটিই ‘লাইলাতুল কদর’। অবশ্য কোনও কোনও ইসলামী মনীষা নিজস্ব ইজতিহাদ, গবেষণা, গাণিতিক বিশ্লেষণ ইত্যাদির মাধ্যমে রমজানের ২৭ তারিখের রাতে (অর্থাৎ ২৬ রোজার দিবাগত রাতে) শবে কদর হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা জোর দিয়ে বলেছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সা: এটাকে সুনির্দিষ্ট করেন নি; বরং কষ্ট করে খুঁজে নিতে বলেছেন। মহিমান্বিত এ রাতকে মহান আল্লাহ রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লুকিয়ে রেখেছেন। বান্দাহ বিনিদ্র্র রজনী কাটাবে, সবর করবে এর মধ্যে খুঁজে পাবে সম্মানিত রাত, পাবে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত; ফেরেশতার অদৃশ্য মোলাকাতে সিক্ত হবে তার হৃদয়, আপন রবের ভালোবাসায় হবে সে উদ্বেলিত। এ যেন দীর্ঘ বিরহের পর আপনজনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ। এ দীর্ঘ প্রতিক্ষার কষ্ট-বিরহের মাধ্যমে রব তাঁর বান্দাকে আরও আপন করে নেন। কাজেই শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইবাদতে মশগুল হতে হবে। প্রতিটি রাতকেই লাইলাতুল কদর মনে করতে হবে। তা হলে লাইলাতুল কদর আল্লাহর মেহেরবানিতে হাতছাড়া হবে না ইনশাআল্লাহ। রমজানের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখের রাতগুলোই ( অর্থাৎ ২০, ২২, ২৪, ২৬ ও ২৮ শে রোজার দিবাগত রাত ) হলো শেষ দশকের বেজোড় রাত। এ রাতের আরেকটি গুরুত্ব হলো- এ পবিত্র রাতেই কুরআন নাজিল হয়েছে। আর এ কুরআনের সাথেই মানুষের ভাগ্য জড়িয়ে আছে। এ জন্য কদরের অন্য একটি অর্থ হলো ভাগ্য। তা হলে লাইলাতুল কদরের অর্থ হয় ভাগ্যরজনী।

লাইলাতুল কদরের আমলসমূহ:

১. কোরআন তেলাওয়াত করা।

২. নফল নামাজ পড়া।

৩. জিকির করা।

৪. দান-সদকাহ করা।

পরিশেষে ছোট একটি হাদিস পেশ করছি।” এ রাতের কল্যাণ থেকে একমাত্র হতভাগ্য লোক ছাড়া আর কেউ বঞ্চিত হয় না” (ইবনে মাজাহ ও মিশকাত)।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *