‘লোকসভা নির্বাচনে ঘৃণার রাজনীতিকে না করার আহ্বান’

‘লোকসভা নির্বাচনে ঘৃণার রাজনীতিকে না করার আহ্বান’

‘লোকসভা নির্বাচনে ঘৃণার রাজনীতিকে না করার আহ্বান’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: ভারতের লোকসভা নির্বাচন একেবারেই নাগালের কাছে। অনেকটা কড়া নাড়ছে দুয়ারে। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপির ঘৃণার রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে সবাইকে নিয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ ভারত’ গড়তে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অরুন্ধতী রায়সহ দেশটির দুই শতাধিক লেখক, অধ্যাপক ও বিশিষ্ট ব্যক্তি।

তাদের মধ্যে রয়েছেন গিরিশ কারনাড, অরুন্ধতী রায়, অমিতাভ ঘোষ, নয়নতারা সেহগল, টিএম কৃষ্ণ, রোমিলা থাপার, কে সচ্চিদানন্দনের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তি। ইংরেজি, হিন্দি, মরাঠী, গুজরাটি, উর্দু, বাংলা, মলয়ালি, তামিল, কন্নড়, তেলুগু ভাষায় দেশবাসীর কাছে এই আবেদন জানিয়েছন তারা।
এর আগে গত সপ্তাহে ভোটারদের প্রতি একই আর্জি জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছিলেন দক্ষিণের শতাধিক পরিচালক।

এবার মোট ২১০ জনের স্বাক্ষরিত আবেদনে বলা হয়েছে, ‘আসন্ন লোকসভা নির্বাচন আমাদের দেশকে এক সন্ধিক্ষণে এনে দাঁড় করিয়েছে। আমাদের সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে। স্বাধীনভাবে জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, প্রার্থনা, মত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে ধর্ম, সম্প্রদায়, লিঙ্গ, জাতপাত ও আঞ্চলিকতা ভেদে নাগরিকেরা গণপিটুনি, অপমান, বিভেদের শিকার হয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেন, বিদ্বেষের রাজনীতি দেশকে ভেঙে দিচ্ছে। লেখক, শিল্পী, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, কাজে বাধা দেয়া হচ্ছে, সেন্সর করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললেই হেনস্থা করা হচ্ছে। হাস্যকর, মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের আমলে দলিত ও সংখ্যালঘু নিগ্রহের কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা চাই, মহিলা, দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হোক। আমরা চাই কাজ, শিক্ষা, গবেষণা, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সবার সমান সুযোগ। সব চেয়ে বড় কথা, আমরা বৈচিত্রের মধ্যে একতা রক্ষা ও গণতন্ত্রের বিকাশ চাই।

তাদের মতে, এই পরিবর্তন আনার প্রথম পদক্ষেপই হবে, ঘৃণা ও বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা। এ জন্য জনগণের প্রতি তাদের আবেদন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে ভোট দিন, বিভেদের বিরুদ্ধে ভোট দিন, হিংসার বিরুদ্ধে ভোট দিন, ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে, সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে ভোট দিন।

সূত্র : আনন্দবাজার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *