পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জমিয়তে উলামা হিন্দের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সবরকম তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। এ উপলক্ষে ২০ অক্টোবর শনিবার মাদ্রাসা দারুল উলুম (মহগামা, ঝাড়খণ্ডে) গড্ডাতে জমিয়তে উলামা হিন্দ গড্ডার এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জমিয়তে উলামা ঝাড়খণ্ডের সভাপতি মাওলানা আবু বকর এবং সহ-সভাপতি মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ১০টি বিষয়সূচির উপর দীর্ঘ আলোচনার পর এসব ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
১ম বিষয় : এই আলোচনাসভার পর আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি বিশেষ বৈঠক করা হবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর একটি করে মিটিং করা হবে। যেটির সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমিয়তে উলামা হিন্দ-এর প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে।
দ্বিতীয় বিষয় : দ্বিতীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের শতবার্ষিকী উপলক্ষে সবরকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। এজন্য প্রতিটি জেলা থানা ও গ্রাম পর্যায়ে আলাদা আলাদা মিটিং করা হবে। সেখানে সাধারণ জনগণকে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং এই ঐতিহাসিক মহাসমাবেশের সব বিষয় সম্পর্কে জানানো হবে। এখানে তাদের প্রয়োজন সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করা হবে। তাদের সাহায্য আমাদের প্রয়োজন বলে সামনে তুলে ধরতে হবে।
তৃতীয় বিষয় : তৃতীয় বিষয় সম্পর্কে আলোচনায় বলা হয় জমিয়তের গড্ডাতে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করা হবে, এ বিষয়ে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। একইভাবে কেন্দ্রের সদস্যের সিদ্ধান্তের পর, গড্ডাতে ১০০ সদস্যপদ তৈরি করা হবে।
চতুর্থ বিষয় : এ বিষয়ে আলোচনায় বলা হয়, সেন্ট্রাল জমিয়ত উলামা হিন্দ কতৃক গৃহীত যে কোন বিজ্ঞপ্তি এবং নির্দেশনা সকল সদস্যকে জানানো হবে এবং সম্মেলনে ব্যবহারিক পোশাক পড়ে যৌথভাবে অংশগ্রহণ করে এটিকে সফল করা হবে।
পঞ্চম বিষয় : এতে বলা হয়, সদস্যদের অঙ্গীকার নেয়ার পর তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির আলোচনা করে বলা হয়, তাদের সার্বিক রিপোর্ট কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে।
৬ষ্ঠ বিষয় : এখানে বলা হয়, খুব শিগগিরই আলোচনা করে রাঁচিতে একটি বৈঠক করা হবে। যেখানে প্রতিটি প্রদেশের সকলের উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষকে সংযুক্তির ব্যাপারে পরিপূর্ণ চেষ্টা করা হবে।
সপ্তম বিষয় : এত সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, জমিয়তে উলামা গাড্ডার সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী এবং সক্রিয় করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
অষ্টম বিষয় : এজেন্ডা নাম্বার আটে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, সমাজ সংস্কারে প্রত্যেকে নিজেদের ঘর, পরিবার এবং নিজ নিজ জায়গায় সব সময় সংস্কার করার চেষ্টা করবে। এসব জায়গায় দ্বীনি দাওয়াতি কার্যক্রম চালাবে এবং সময়ে সময়ে সভা-সেমিনারাের মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানদের সার্বিক সংশোধনের চেষ্টা করবে।
নবম বিষয় : এজেন্ডা নাম্বার নয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে মহগামায় গাড্ডা জেলার একটি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। যেটির তারিখ উলামায়ে হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যেদ মাহমুদ মাদানী-র সাথে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে। যেন এখানে হযরতের অংশগ্রহণ সম্ভব হয়।
দশম বিসয় : উল্লেখিত আলোচিত বিষয়সমূহের সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ে সভাপতি মহাদয়ের সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে ভোটার লিস্টে নতুন নামের নিবন্ধন অবৈধ নামের সংশোধন করা হবে।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সূত্র : ডেইলি বিরক তাজা, ভারত
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


