পরনিন্দা বর্জন করি । ইশতিয়াক আহমাদ

পরনিন্দা বর্জন করি । ইশতিয়াক আহমাদ

পরনিন্দা এমন এক সামাজিক ব্যাধি,যা বিদ্বেষ ও অনৈক্যের জন্ম দেয়,পরস্পরিক কলোহের দাবানলে সমাজ ধ্বংসজজ্ঞে পরিণত হয়, বিশ্বাস ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধ বিচ্ছিন্ন হয়, সমাজে বাড়ে সহিংসতা, পরস্পরের দোস চর্চায় উভয় পক্ষ ক্রোধে ফেটে পড়ে, যা বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সাক্ষর হয়ে থাকে।

সমাজের প্রতিটি জাত বর্ণধর্ম নির্বিশেষে সবাই পরনিন্দাকে অপছন্দ করে, সমাজকে এ বিধ্বংসী ব্যাধি থেকে বাঁচাতে সকলেই নিজ নিজ দর্শন পেশ করেছেন।

তবে এক্ষেত্রে ইসলাম যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সমাজ বিনির্মাণে তা এক দীপ্তিমান উপখ্যান।

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরনিন্দার এমন এক সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যার ব্যাপকতার মাঝে অন্যের প্রতি সকল অপ্রিতিকর বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পরনিন্দা সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলে নবীজী বলেন, তোমার ভায়ের এমন আলোচনা করা যা তার নিকট অপছন্দনীয়, জিজ্ঞাস করা হলো, যদি সে সেই অপরাধে অপরাধী হয়!নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তবেই তো তুমি পরনিন্দা করলে, অন্যথায় তো তুমি তাকে অপবাধ দিলে, যা আরো জঘন্যতম। (হা ১৯৪০ তিরমিজী)

ইসলামী শরিয়াহ পরনিন্দার সংজ্ঞা এভাবে প্রদান করে যে, কারও অগোচরে মুখে, কলমে ইশারা, ইংগীতে, অথবা অন্য কোন উপায়ে তার এমন দোষের আলোচনা করা, যা সে শুনলে মনে আঘাত পেতে পারে, চাই সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম!

আর এ ক্ষেত্রে ইসলামের ব্যাপকতা ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে এমনকি জীবিত মৃত সকলকে শামিল করে।

পরনিন্দাকে কয়েক প্রকারে ভাগ করা যেতে পারে!

শরীরিক গঠন সম্পর্কে পরনিন্দা
কারো আড়ালে তার শারীরিক দোস ত্রুটি নিয়ে হাসি ঠাট্টা করা, চোখ টিপে হাসা হাসি করা, অনুরুপভাবে কারো গায়ের রং নিয়ে তামাশা করা, শারীরিক আকার আকৃতি, গলার স্বর ইত্যাদী বিষয়ে দোষ চর্চা করা, এগুলো জঘন্যতম অপরাধ এবং মৌলিকভাবে স্রোষ্টার সৃষ্টিতে ত্রুটি অনুসন্ধানের মত ধৃষ্টতা।
পোশাক সম্পর্কিত দোষ চর্চা, খুঁজে খুঁজে অন্যের পোশাকে ত্রুটি অন্বেষণ করা, কারো অলংকার সম্পর্কে এরূপ মন্তব্য করা যে এগুলো স্বর্ণ নয় বরং সিটি গোল্ড।

বংশ সম্পর্কে দোষ চর্চা
কারো অগচরে হিংসা বসত তার বংশের বদনাম করা,যেমন তার চৌদ্দ পুরুশ কুলি ছিলো,তার মা বাড়ি বাড়ি ঝি এর কাজ করতো, এসব বিরুপ কথা বলে তাকে জনসম্মুখে খাটোকরা।

বদভ্যাস ও পাপাচার সম্পর্কে পরনিন্দা
সমাজ পরিবেশ ও কালচার গত বিভেদে মানুষের মধ্যে ভিন্নতম অভ্যাস গড়ে ওঠে,যা কখনো ভদ্র সমাজে দৃষ্টি কটু হয়,সেগুলোকে কেন্দ্র করে দোষ চর্চা করা।

অনুরুপভাবে কারো পাপকাজ বা অন্যায়ের সম্পর্কে দোষ চর্চা করা, যেমন লোকটি বেনামাজি অথবা জিনা কারি।

পরক্ষভাবে পরনিন্দা করা
প্রতক্ষভাবে পরনিন্দার পাশাপাশি সমাজে পরক্ষভাবে পরনিন্দাও চালু রয়েছে,যেমন কোন পঙ্গু ব্যেক্তির অনুকরণে খুড়িয়ে হাটা,বা তোতলার কথা জড়তাকে পুজিকরে এভাবে বেধে বেধে কথা বলা,এর ফলে আক্রান্ত ব্যেক্তি সিমাহীন কষ্ট পেয়ে থাকেন।

এসব পরনিন্দা আজ সমাজে মহামারি আকার ধারণ করেছে,যার ফলে সামাজিক বিশ্বাস, সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ক্রমেই বিলীন হচ্ছে।

ইসলাম পরনিন্দার ব্যাপারে কঠোর ধমকি প্রদান করেছে,আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালামে ইরশাদ করেন তোমরা একে অপরের দোষচর্চা করোনা, তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করে? বস্তুত তোমরা তা অপছন্দ করো,সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো।(সূরা হুজুরাত : আয়াত ১১)

অনুরূুপ ভাবে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরনিন্দা মুক্ত সমাজ গড়তে দিয়ে গেছেন এক মহান শিক্ষা, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তোমার সামনে যখন কারো দোষচর্চা করা হয়, তখন তুমি তার প্রশংসা করতে আরম্ভ করো,এবং তার ভালো দিক গুলো তুলে ধরো,সম্ভব হলে গীবত বন্ধ করার চেষ্টা করো, অন্যথায় সে মজলিস ত্যাগ করো, কেননা চুপ থাকলে তুমি গীবত কারি রূপে গণ্য হবে।

আজকের সমাজে পরনিন্দা এতই ব্যাপকতা লাভ করেছে যে ধর্মীয় বিশ্লেষকগণ বলছেন যে, সমাজে গীবত আজ ঘি-ভাতে পরিণত হয়েছে, পরনিন্দা করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন সর্বস্তরের মানুষ, চা স্টল থেকে শুরু করে অফিস, আদালত, সর্বস্তরে চলছে পরনিন্দার ঝড়।

সুতরাং আসুন, আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে ও সম্প্রীতি সৌহার্দ্য রক্ষায় আমরা পরনিন্দা বর্জন করি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *