শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হলে তো ফেরেশতা হয়ে যেতাম : তাকসিম খান

শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হলে তো ফেরেশতা হয়ে যেতাম : তাকসিম খান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসাকে ‘অনিয়ম ভরপুর ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ একটি প্রতিষ্ঠান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেছেন, ওয়াসা দুর্নীতিগ্রস্ত নয়।

‘শতভাগ! এই শব্দটার বিষয়ে আমি বলতে পারব না। তবে আমরা দুর্নীতিমুক্ত, আমাদের এখানে সুশাসন আছে। শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হলে তো ফেরেশতা হয়ে যেতাম।’ আপনি কি বলতে পারেন ওয়াসা শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত?– এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তাকসিম খান এসব কথা বলেন।

টিআইবির প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, টিআইবির গবেষণাপত্রের ফলাফলের প্রচারণার ধরন, কৌশল ও অ্যাপ্রোচ দেখে এটা সহজেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে যে, গবেষণার পারসেপশনভিত্তিক (উপলব্ধি) মনগড়া তথ্য দিয়ে ঢাকা ওয়াসাকে জনসম্মুখে অপমান করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

টিআইবির প্রতিবেদনে ‘এমডি তাকসিম ওয়াসায় একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাকসিমের মন্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। কিন্তু মাউথ স্পিকারটি তার কাছ থেকে নিয়ে ওয়াসার বোর্ড পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক শাবান মাহমুদ প্রশ্নের উত্তর দেন।

শাবান মাহমুদ বলেন, আমি বোর্ডের একজন সদস্য। দায়িত্ব পাওয়ার পর তাদের ৪টি সভায় যোগ দিয়েছি। এটি একেবারেই কল্পনাপ্রসূত অভিযোগ। কারণ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা প্রত্যেকেই পেশাজীবী সংগঠনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত প্রতিনিধি। কোনো মেরুদণ্ডহীন প্রাণী সেখানে সদস্যপদ পাননি। তিনি বলেন, আজকে এমডি সাহেব (তাসকিম) আপনাদের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে যেভাবে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন, পরিচালনা পর্ষদে উনি এর চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়েছেন। অনেক সিদ্ধান্ত উনি গত দুই থেকে আড়াই বছর ধরে নেয়ার চেষ্টা করলেও, পরিচালনা পর্ষদের কারণে সেগুলো গ্রহণ করতে পারেননি। দায়িত্ব পাওয়ার পরে আমার এমন কিছু (একনায়কতন্ত্রের প্রসঙ্গে) মনে হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে তাকসিম খান বলেন, ‘ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়।’ এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে একটি ইংরেজি দৈনিকের সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি আমার এলাকার ২ গ্লাস পানি খেয়ে বলতে পারবেন পানি সুপেয় কি না?’ উত্তরে তাসকিম বলেন, আপনি কোন এলাকার কথা বলছেন? ওই সাংবাদিক বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, মৌচাক ও মালিবাগ।

এলাকার নাম শুনে তাকসিম বলেন, আমি নিশ্চিত ওখানকার পানি বিশুদ্ধ। তবে মাঝে মাঝে পুরনো পাইপলাইন ও বাসার ট্যাংক ময়লা হওয়ার কারণে পানি দূষিত হয়। আমাদের ঢাকা ওয়াসা থেকে বাড়ির হাউজে পানি যাওয়ার আগ পর্যন্ত পানি শতভাগ সুপেয় থাকে।

ওই সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের পরপরই শাবান মাহমুদ তাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কোন পত্রিকায় কাজ করেন? পত্রিকার নাম বলার পর তার নাম জানতে চান এবং তা নোট করে রাখেন। এরপর শাবান মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা প্রতিষ্ঠান ও নিজের নাম বলে প্রশ্ন করবেন।’

এর আগে বুধবার (১৭ এপ্রিল) টিআইবির পক্ষ থেকে ‘ঢাকা ওয়াসা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে ওয়াসার অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে বলা হয়, সেবাগ্রহীতাদের ৮৬.২ ভাগ ওয়াসার কর্মচারী এবং ১৫.৮ ভাগ দালালকে ঘুষ দিয়ে থাকেন।

এর মধ্যে পানির সংযোগ গ্রহণে ২০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, পয়ঃনিষ্কাশন লাইনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণে ৩০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০, গাড়িতে জরুরি পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, মিটার ক্রয় বা পরিবর্তন করতে ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার, মিটার রিডিং ও বিল-সংক্রান্ত বিষয়ে ৫০ থেকে ৩ হাজার এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি পানের উপযোগী করে। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে বা সিদ্ধ করে পান করে। গৃহস্থালি পর্যায়ে পানি ফুটিয়ে পানের উপযোগী করতে প্রতি বছর আনুমানিক ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাসের অপচয় হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *