পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ২০১৯ মানে বিজেপি ফিনিশ মন্তব্য করে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘এবার আঞ্চলিক দলগুলোর ফলাফল দেখে বিজেপি টের পাবে তাদের ক্ষমতা কতখানি। ২০১৯ মানে বিজেপি ফিনিশ। ১৪২৬ মানে বাংলায় ৪২ এ ৪২।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘জ্যাকেট আর সিনেমা আগেই তৈরি হয়েছে। মোদির নামে এখন শুধুমাত্র জুতা বানানোই বাকি রয়েছে। এবার জুতো তৈরি করার পালা। সেই জুতা পায়ে দিয়ে ঘুরবে আমজনতা।’
লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণায় শুক্রবার (২০ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাট আসনের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে এমনভাবে কটাক্ষ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জি। বালুরঘাটের লোকসভা আসন থেকে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের পক্ষে প্রচারণায় যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এবারের নির্বাচন পুরো দেশের স্বার্থে। মনে রাখবেন, এবারও যদি মোদিবাবু ক্ষমতায় আসেন, সব ধরনের স্বাধীনতা হারাবে জনগণ।’
বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা ও বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নরেন্দ্র মোদির ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি বলেন, ‘আমিও হিন্দু। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী রামকৃষ্ণের হিন্দুত্ববাদে আমি বিশ্বাস করি। আমি হিন্দু আদর্শ অনুসরণ করি। তার মানে এই না যে অন্য ধর্মকে অসম্মান করতে হবে। আমি মানবতার আদর্শ নিয়ে অন্য ধর্মের কর্মকাণ্ডে অংশ নিই।’
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় নিজের আসনে দলের প্রচারণায় গিয়ে এক বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন বালুঘাট আসনের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা। অনেক দিনের চিকিৎসার পর আস্তে আস্তে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতে সক্ষম হন।
অর্পিতাকে নিয়ে মমতা বলেন, ‘অর্পিতার বিরুদ্ধে অনেকে অনেক কথা বলছে। তাকে ভুল বুঝবেন না। সে লড়াকু মেয়ে। এখানে কাজ করতে এসে খুব বড় বিপদের মুখে পড়েছিল। সেখান থেকে বেঁচে ফিরেছে। আপনারা তাকে আবার ফিরিয়ে আনুন। সে নাটক, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে ও জড়িত এবং ভালো কাজও করেছে।’
বিজেপি এবার একটি আসনও পাবে না দাবি করে মমতা বলেন, ‘এখন মোদি আর বিজেপির অন্য নেতাদের সবাই ভয় পায়। ভাবেন এই না দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়। বিজেপি বলছে, বাংলা, উড়িষ্যা দখল করব। এই দুজায়গা দখল করে কী হবে? অন্যত্র তো বিজেপি শূন্য পাবে। তাহলে কি ক্ষমতায় ফিরবে।’


