- শরিফ হাসানাত
হুরে গিলমান
তুমি এলে
আমার একান্ত রাজ্যজুড়ে
ছড়িয়ে পড়ে অদ্ভূত সুরভিত ঘ্রাণ
যেন মাত্রই স্নান করে এলে খুসবুনদে।
তার সুরভীর মাদকতায় তলিয়ে যাই ক্রমশ
নৌকাডুবির মতো হই ম্লান।
তুমি এলে
কানায় কানায় কেমন ভরে ওঠে
হাজার বছরের তৃষ্ণিত অচঞ্চল প্রাণ।
ঢলের যুবতিজল পালিয়ে যাবার পর
সদ্য গজা ঘাসের মতো জেগে ওঠি।
তুমি এলে
তিরতির করে কাঁপা কাজলচোখের পাপড়ি
নিমিষে হারিয়ে যায় অজানিতে
আমার সমস্ত চৈতন্যবোধ।
তুমি এলে
পিউ পাপিয়ার মিহি সুরে
আমার যেন গাইতে ইচ্ছে করে মহুয়ার গান
জান্নাতীর আগমনে আহলান সাহলান সুরে
যেভাবে গাইবে হুরে গিলমান।
প্রকৃতির হিম ছোঁয়া
নিস্তব্ধ নির্ঘুম রাতে অসীম শূন্যতা চারপাশে
চিত হয়ে শুয়ে পালঙ্কে
নক্ষত্রের মিছিল দেখি–
ভাঙ্গা চালার ফাঁকে ফাঁকে।
দেখি–উপুড় হয়ে ঝরে পড়া চাঁদের কৌমুদী
নীলবর্ণে কেমন চিকচিক করে রাতের কালো চাদর।
খুব সহজে প্রবেশ করে
আমাদের জীর্ণ কুঁড়েঘরে রাতদুপুরে।
তোমাদের পাথুরে শক্ত প্রাচীর ডিঙিয়ে
সরকারি অনুদান অবৈধ অনুপ্রবেশ করলেও
শীত পারে না সেগুন কাঠের দরোজা
ভারি কাঁচের জানালা ভেদ করে ঢুকতে।
আমাদের বেলায় বৈধ অনুদান আটকা পড়ে
শিক্ষিত ডাকাত, রক্তচোষা নেতার হাতে।
অথচ খুব সহজে প্রবেশ করে অজস্র ছিদ্রগলে
হিমহিম শীত জীর্ণ কুঁড়েঘরে রাত দুপুরে।
আমাদের ক্লিষ্ট জীবন এভাবেই কেটে যায়
ক্ষুধার রাজ্যে প্রকৃতির পরম উষ্ণ ছোঁয়ায়।


