শরীক হলাম সোহেলের মাগফেরাতের দোয়ায়

শরীক হলাম সোহেলের মাগফেরাতের দোয়ায়

শরীক হলাম সোহেলের মাগফেরাতের দোয়ায়

সারওয়ার আলম ভূইয়া : শফিকুল ইসলাম সোহেল।আমাদের সমবয়সী একজন সদালাপী সজ্জন সভাবের মানুষ।হাট্টা খাট্টা সুদর্শন, সুঠাম দেহের অধীকারী সুপুরুষ। হাস্যোজ্জ্বল নম্র-ভদ্র বিনয়ী একজন মানুষ।

মহান প্রভুর ডাকে সাড়াদিয়ে চলে গেলেন পরপারে।প্রায় অর্ধশতাব্দির ক্ষনস্থায়ী এ জীবনে সে রেখে গেছেন অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব, ভাই-ব্রাদার, আত্মীয় স্বজন।কিশোর বয়োসী এক মেয়ে, এক ছেলে। দুটিই সন্তান তাঁর।

ক্লাস ফাইভে পড়ুয়া ছেলেটা এখনো বুঝে উঠতে পারেনি বাবা হারানোর সঠিক মর্মার্থ।আল্লাহ তাঁকে পিতা হারানোর শোক সইবার তাওফিক দিক।
দোয়া অনুষ্ঠানে কোন বক্তব্য হয়নি।বলা হয়েছে শুধুই মাগফেরাতের জন্য এ দোয়া।ওর বিশেষ কিছু গুন ছিল,যা নিয়ে আলোচনা হতে পারতো।মানুষ দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর তার বিশেষ গুন নিয়ে আলোচনার বিষয় হাদিসে এসেছে।মানুষ যেন শিক্ষা নিতে পারে।

সে একটু বন্ধুপ্রিয় মিশুক স্বভাবের মানুষ ছিল। উদাহরণ স্বরূপ বলি। ৮০ র দশক এর শুরুর দিকে তাঁর সাথে আমার পরিচয়। তখন জামেয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুম এর হিফজ বিভাগের ছাত্র আমি।মাদরাসায় গোসলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায়, নিউ হোস্টেলের পুকুরে আমরা গোসল করতে আসতাম।সোহেলদের বাড়ীর উল্টো পার্শেই নিউ হোস্টেল।তখন ছিল পুকুর সংস্কৃতি।বাড়ীর বাথরুমে গোসল হতো না কারোরই।সবাই নিজেদের পুকুরে বা নিউ হোষ্টেলের বিশাল পুকুরের সচ্ছ পানিতে, অত্র অন্চলের অধিকাংশ অধিবাসীরাই গোসল করতো।সেই সুবাদে সোহেলের সাথে পুকুরের ঘাটে আমারও পরিচয়।

কুমিল্লা নিউ মার্কেটে আমি ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করার পর, সেই পুরনো সম্পর্কটা সোহেল নিজ গুনে ঝালাই করে, পুরনো পরিচয়ের সূত্রধরে।আমি অবাক হয়ে গেলাম তাঁর মেধা ও মহানুভবতা দেখে। মানুষকে আপন করার কি যাদুগরি গুণ তার। সম্পর্কে দীর্ঘ সময় গেপ হওয়ার পরও সোহেল মনে রেখেছে ছেলে বেলার সেই দিন গুলোর কথা।

সোহেলের মৃত্যুর সংবাদ এফবিতে পাওয়ার পর আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে, সম্পর্ক ঝালাই এর দিনে তাঁর হাসি মাখা-সহানুভুতিশীল দরদী কথাগুলোর সেই মনোরম দৃশ্য।আমি ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ি। তাঁর মাগফেরাতের জন্য মন থেকে দোয়া কালাম পড়ে, দোয়া করার চেষ্টা করি।
এ পৃথিবীতে কেউ থাকবে না।সবাইকেই চলে যেতে হবে।কেউ আগে আর কেউ পরে।মানুষ চলে যায়,থেকে যায় তাঁর সদাচরণ ও ব্যবহারের স্মৃতি।অনেক সময় সে স্মৃতি ভোলা যায় না।তেমনি ভুলতে পারলাম না সোহেল কে।আহ সোহেল আহ…….

দোয়ায় শরীক হওয়া চ বি র ২৫ ব্যাচ এর অসংখ্য বন্ধু ও সহপাঠিকে তাঁর এ শেষ বিদায় এর দোয়ায় দেখতে পোলাম।এটা তাঁর ভাল মানুষির বিশেষ গুণ।আল্লাহ তাঁকে মাফ করে দিয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুক।

লেখক : সমাজ বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *