নিজস্ব প্রতিবেদক ●প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। এ সময় সকল ফ্লাইট উঠানামা বন্ধ থাকে। শুক্রবার বেলা ১টা ৩৭ মিনিটে শাহজালালের মূল ভবনের তৃতীয় তলার এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুন লাগে। এ সময় কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে আশপাশ এলাকা।
আগুন লাগার খবরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে থাকেন। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়। এ সময় সাধারণ যাত্রীরাও আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে থাকেন। একটা ৩৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে উত্তরা, কুর্মিটোলা, টঙ্গি ও হেড কোয়ার্টার থেকে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নাভানো কাজ শুরু করে। বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে আগুন নেভানোর কাজ শেষ করে ফায়ার সার্ভিস। এরপর বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়। উঠানামা করতে থাকে স্থগিত ফ্লাইট।
আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উপপরিচালক দেবাশিষ বর্ধনকে প্রধান করে কমিটির অপর দুজন হচ্ছেন সহকারী পরিচালক মামুন আহমেদ ও সিনিয়র কর্মকর্তা আবুল হোসেন। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র মোদক জানান, শুক্রবার ১টা ৩৬ মিনিটে বিমানবন্দরের মূল ভবনের তিনতলায় এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসে বৈদ্যুতিক শট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের পাশের আরও দুটি অফিসকক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। কর্তব্যরত কর্মকর্তারা অগ্নিনির্বাপণ গ্যাস দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। ছুটে আসে বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট। তার সঙ্গে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট। পরে বিকেল ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বিমানবন্দরে আগুন লাগার খবরে মূল ভবনের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দেশের প্রধান বিমানবন্দর শাহজালালে সকল ফ্লাইট উঠানামা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল সাড়ে চার ঘণ্টা। বিমানবন্দরের পরিচালক ইকবাল করিম জানিয়েছেন, আগুন পুরোপুরি নির্বাপন হলে বিকেল সাড়ে ৫টার পর স্থগিত ফ্লাইটগুলো ছাড়তে শুরু করে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগুন ভারতীয় এয়ারলাইন এয়ার ইন্ডিয়ার অফিস থেকে লেগেছে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। বাহিনীটির পরিচালক (অপারেশন) গণমাধ্যমকর্মীদেরকে এই তথ্য জানান।
আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি নিজেও ছুটে যান সেখানে। প্রতক্ষ্যদর্শী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মহির উদ্দিন জানান, মালদ্বীপ এয়ার লাইন্সে তার ভারতের চেন্নাই যাওয়ার কথা ছিল। বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে ফ্লাইট ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে তার বোর্ডিং সম্পন্ন হয়ে ইমিগ্রেশন কার্ড চলার সময় হঠাৎ ফায়ার এলার্ম বেজে ওঠে। ওই মুহূর্তে ইমিগ্রেশন থেকে তার পাসপোর্টটি ফেরৎ দেয়া হয়। ইমিগ্রেশনের সব কাজ বন্ধ করে কর্মকর্তারা বেরিয়ে যেতে থাকেন। তিনিসহ অন্যান্য যাত্রীরাও বেরিয়ে যেতে থাকেন। বিমানের ফ্লাইট অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, দুপুর দেড়টার পর থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সকল ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ করে দেয়া হয়।
বিকাল চারটার দিকে বিমানবন্দরে সকল কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এই আড়াই ঘণ্টায় বিমানবন্দরে কোনো ফ্লাইটের উঠা-নামার শিডিউল ছিল না। শুধু অগ্নিকা-ের সময়ে ১টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারলাইনের বিমানটি যাত্রীদের নিয়ে ছেড়ে যায়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তাছমিন আকতার বলেন, বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবন ১-এর তিনতলায় এয়ার ইন্ডিয়ার কার্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে বাংলাদেশ বিমানেরও একটি কক্ষ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি। দমকল বাহিনীর পাশাপাশি সেখানে পাঠানো হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী। পুলিশের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের কর্মীরাও যোগ দেয় সেখানে। কোথায় আগুন লেগেছেÑএ নিয়ে শুরু থেকে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। কেউ বলছিলেন দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত, আবার কেউ বলছেন তৃতীয় তলা থেকে আগুন লেগেছে। তবে বিমানের এক কর্মকর্তা জানান, মূল ভবনের তৃতীয় তলায় বেশ কয়েকটি এয়ারওয়েজের অফিস রয়েছে। সেখান থেকেই আগুন লাগার সম্ভাবনা বেশি।
তৃতীয় তলায় বাংলাদেশ বিমানের দুটি, এয়ার ইন্ডিয়ার একটি, কাতার এয়ারওয়েজের একটি, সৌদি এয়ারলাইন্সের একটিসহ আরও কয়েকটি এয়ারওয়েজের অফিস রয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) শাকিল নেওয়াজ সাংবাদিকদেরকে জানান, এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আগুন লাগার সাথে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ টিম আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তারা অক্সিজেন নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে এবং তিনটা পাঁচ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে এরপরও তৃতীয় ও চতুর্থ তলার কিছু অংশ তল্লাশি করা হয়। তবে আগুন লেগেছে বলে মানতে নারাজ এপিবিএনের সিনিয়র এএসপি মো. আফতাব। তার দাবি, ধোঁয়া বের হচ্ছিল কেবল। আফতাব বলেন, এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসে শর্ট সার্কিট হয়। সেখান থেকে ধোঁয়ার কু-লী বের হয়। কিন্তু কোনো আগুন দেখা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা যখন পানি দেয় তখন ধোঁয়া আরও বেড়ে যায়।


