শুক্রবার হেফাজতের বিক্ষোভ
পাথেয় রিপোর্ট (চট্টগ্রাম প্রতিনিধি) : গত সোমবার জাতীয় সংসদে কওমি মাদ্রাসাকে বিষবৃক্ষের সঙ্গে তুলনা, ইসলামী অনুশাসনকে ‘মোল্লাতন্ত্র’ ও হেফাজতে ইসলামীর আমির আল্লামা আহমদ শাহ শফিসহ আলেম সমাজকে কটাক্ষ করে রাশেদ খান মেনন যে বক্তব্য দিয়েছেন এর বিরুদ্ধে শুক্রবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছে।
সংসদস সদস্য রাশেদ খান মেননের ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মুহতামিম আল্লামা আহমদ শফীর হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ শুক্রবার বিক্ষোভ করবে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে কওমি মাদ্রাসাকে বিষবৃক্ষের সঙ্গে তুলনা, ইসলামী অনুশাসনকে ‘মোল্লাতন্ত্র’ ও আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ আলেমসমাজ সম্পর্কে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বক্তৃতার তীব্র প্রতিবাদেই শুক্রবার এ বিক্ষোভ সমাবেশ করবে হেফাজত অনুসারীরা।
আরও বলা হয়, হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফীর নির্দেশে ঢাকা মহানগর হেফাজত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ করবে।
ঢাকা মহানগর হেফাজতের সভাপতি নূর হোছাইন কাসেমী এ বিক্ষোভ সমাবেশের সভাপতিত্ব করবেন।
এর আগে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করেন খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা। পরে সমাবেশ শেষে রাশেদ খান মেননের ছবিতে জুতাপেটা করে অগ্নিসংযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
সমাবেশে নেতারা বলেন, এমন জঘন্য বক্তব্য দিয়ে রাশেদ খান মেনন সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হরিয়েছেন। অবিলম্বে তাকে সংসদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
গত বুধবার যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। তারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি করে বলেছে, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কাদিয়ানিদের দোসর রাশেদ খান মেনন কুরআন-সুন্নাহর বিধান ও ইসলামী অনুশাসনকে ‘মোল্লাতন্ত্র’ আখ্যায়িত করে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অপমানিত করেছেন। আমি আশাবাদী প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আল্লাহ-রাসুল এবং ইসলামকে অবমাননা করায় মেননকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবেন। এধরনের বেয়াদব জাতীয় সংসদের সদস্য থাকতে পারে না। অবিলম্বে মেননের সংসদ সদস্য পদ বাতিল ও তাঁর বিচার করে ক্ষুব্ধ তৌহিদী জনতাকে শান্ত করবেন।
বুধবার বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে তারা এসব কথা বলেন। পরে মিছিল বের করা হয় এবং সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।


