শোকাহত বিদিশার আবেগঘন স্ট্যাটাস
পাথেয় রিপোর্ট : সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ কিছু সময় কাটিয়েছেন বিদিশা। স্ত্রী হিসেবে তার সঙ্গের মুহূর্তগুলো এখন তার মনে হতেই পারে। আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি কি বলতে চেয়েছেন, পড়ে দেখুন।
সংসদে বিরোধীদলীয় ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শোকাহত তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা।
সাবেক স্বামীর মৃত্যুতে আক্ষেপ জানিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে বার্তা দিয়েছেন বিদিশা। সেখানে প্রোফাইল ছবিতে এতদিন থাকা এরশাদ ও তাদের ছেলে এরিকের ছবি সরিয়ে বসিয়েছেন কালো ব্যাজ।
বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থানরত বিদিশা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এ জন্মে আর দেখা হলো না। আমিও আজমির শরিফ আসলাম, আর তুমিও চলে গেলে। এত কষ্ট পাওয়ার থেকে মনে হয় এই ভালো ছিল। আবার দেখা হবে হয়তো অন্য এক দুনিয়াতে, যেখানে থাকবে না কোনো রাজনীতি।’
এর আগে এরশাদ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন বিদিশা।
প্রসঙ্গত রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে এরশাদ মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
গত ২৬ জুন সকালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অসুস্থবোধ করলে তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। বার্ধক্যজনিত রোগসহ নানা রোগে ভুগছিলেন এরশাদ।
প্রসঙ্গত, এরশাদ ও তার দল জাতীয় পার্টি বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে রীতিমতো হাস্যরসের বস্তুতে পরিণত হয়েছিল। একেক সময় একেক ধরনের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ‘অসুস্থ বোধ’ রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি কারাগার থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ওই নির্বাচনে রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি সরকার তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে। তার মধ্যে কয়েকটিতে তিনি দোষীসাব্যস্ত হন এবং সাজাপ্রাপ্ত হন।
১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ছয় বছর আবরুদ্ধ থাকার পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি ২০০০ সালে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার মধ্যে মূল ধারার চেয়ারম্যান হন তিনি।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় পার্টি। তার স্ত্রী রওশন এরশাদ প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হন।
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত হন। জোটগতভাবে নির্বাচন করে ২২টি আসনে জয়ী হয় জাতীয় পার্টি।


