সবাইকে ভালবেসেছি, বাসতে চাই
মুস্তাফা জামান আব্বাসী : কি যে লিখব ভেবেই পাই না। অথচ লেখার কথা অনেক। অনেকে আমার কাছে উপদেশ চান। উপদেশ দেওয়ার মনোভাব আমার নেই। আমি তেমন কিছু না। মরে গেলে আমার মাটিতে যাদের পাওয়া যাবে, তাদের নাম নানা রকমের পোকা ও কীটপতঙ্গ, এরা আমার সবকিছু তন্নতন্ন করে নিঃশেষ করে দেবে।
আমার আত্মা থাকবে। নিষ্পাপ নয়, তবে নিষ্পাপের কাছাকাছি। কারও অন্যায় করি নি, কাউকে হিংসা করি নি। সবাইকে ভালবেসেছি। ঘৃণা কাকে বলে জানি না। জীবনকে উপভোগ করেছি, গানে, কবিতায়, ছন্দে, লালিত্যে। যা কিছু দেখি সুন্দর মনে হয়। মৃত্যুকেও। সে যেন আমাকে আলিঙ্গণ করার জন্যে সদা প্রস্তুত। সবসময় মনে হয়, আরও ভাল হতে কেন পারে না হৃদয়। যা কিছু সুন্দর দেখি, কুক্ষিগত করতে চাই না। সে সুন্দর থাকুক। আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখব।
এই দেশটাকে ভালবেসেছিলাম। মরার পর মাটি আঁকড়ে থাকব। এটা আমার দেশ। বড় ভাল লাগবে এই আঁকড়ে থাকা। দৈহিকভাবে হয়ত নিষ্পেশিত হব, কিন্তু আল্লাহ্ আমার সহায়। জীবনে অনেক বড় সভায় গান গেয়েছি। আমার গানে মানুষের চোখে পানি এসেছে। সেটা আমার সামান্য সঞ্চয়। আমার আর কোন সঞ্চয় নেই। আমার টাকা পয়সা সব কেড়ে নিয়েছে। এখন আমি নিঃস্ব। এ দেশ আমাকে কিছু দিল না। তাতে কি? আমি অনেক বড় কিছু আল্লাহ্র কাছে পাব। আমার অর্থ সংকটের বিনিময়ে।
আমি অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। সবাই শেষের দিনে আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। আমার কোন প্রত্যাশা নেই। ‘সবার শেষে যা বাকি রয়, তাহাই লব, তোমার চরণ ধুলায় ধুলায় ধুসর হব’।
পাপ আমাকে ভয় পায়। জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। কুরআন দিয়ে আমার ঘর ঠাসা। কোনখান দিয়ে আসবে, ভেবে পায় না। রিপুগুলো রাস্তা খোঁজে, রাস্তা পায় না। তোমাদের ঘরেও এমনি হলে ভাল হয়।
মু. জা. আ.
১১ই আষাঢ়, ১৪২৬


