পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পৃথিবীর হৃৎপিন্ড আমাজন বন। এরচেয়ে বড় আর কোনো বন নেই। সঙ্গত কারণেই এটি পৃথিবীর হৃৎপি- হিসেবে আখ্যা পেয়েছে। বড় দুঃসংবাদ হলো, এখন পৃথিবীর এই হৃৎপি- পুড়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই পুড়ে গেছে মাইলের পর মাইল বন। আমরা জানি, জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের অস্তিত্বের সাক্ষাৎ হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এ বিপদ আরও ভয়াবহ করে তুলেছে পৃথিবীর হৃৎপিন্ড হিসেবে বিবেচিত আমাজন জঙ্গলের অগ্নিকান্ড।
প্রায় ৫৫ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আমাজন জঙ্গলে প্রতি বছরই জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দাবানল সৃষ্টি হয়। দাবানলে পুড়ে যায় হাজার হাজার গাছ। কিন্তু চলতি বছর দাবানলের থাবা বিস্তৃত হয়েছে গত বছরের তুলনায় ৮৫ ভাগ বেশি এলাকাজুড়ে। চলতি বছর অন্তত ৭৪ হাজার বার অগ্নিকা-ের শিকার হয়েছে বিশ্বের এই বৃহত্তম বনভূমি।
এ বছর আমাজনে মাত্রাতিরিক্ত দাবানল নিছক প্রাকৃতিক না ইচ্ছাকৃত, তা নিয়েও ইতোমধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, ব্রাজিলের দক্ষিণপন্থি প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর পরিবেশবিরোধী মনোভাবের কারণে অনেকে তাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হরিহর আত্মা বলে অভিহিত করেন। বিশাল আমাজন বনে আগুন লাগিয়ে শিল্পকারখানা স্থাপনের উপযোগী জায়গা তৈরি করা হচ্ছে কিনা- এমন সংশয় দানা বেঁধে উঠেছে খোদ ব্রাজিলের জনমনে। যে কারণে দাবানলের সৃষ্টি হোক না কেন তা ব্রাজিল সরকারের জন্য ইতিমধ্যে বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে।
ফ্রান্সের বিয়ারিতসে শুরু হওয়া বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাবশালী সাত দেশের গ্রুপ সেভেন বা জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনেও আমাজন ইস্যুতে ব্রাজিল চাপের মুখে পড়েছে। ফ্রান্স হুমকি দিয়েছে, আগুন থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ব্রাজিলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পাদিত চুক্তি বাতিল হতে পারে। অন্যসব দেশের পক্ষ থেকে বিশ্বের বৃত্ততম এই রেইন ফরেস্টের অস্তিত্ব রক্ষায় সাধ্যে কুলায় এমন সব ধরনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
আমাজনের দাবানল নিয়ে বিশ্বসমাজের উদ্বেগের কারণটি সহজেই অনুমেয়। পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেনের উৎস এই বনভূমি। জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকিতে পৃথিবীর আবহাওয়ায় যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে, আমাজনের দাবানল তা ব্যাপকহারে বাড়িয়ে দিতে পারে- এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। শুধু ব্রাজিলের আকাশই ধোঁয়াচ্ছন্ন নয়, আমাজনের আগুনের কারণে জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যা বিশ্বজুড়েই সৃষ্টি হতে পারে। বাঁচবে না বাংলাদেশও।
সাত সাগর তের নদী দূরত্বের আমাজন জঙ্গলে আগুন লাগলেও বাংলাদেশের মানুষের তাই উৎকণ্ঠার শেষ নেই। অবশ্য জলবায়ু পরিবর্তনে যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার একটি বাংলাদেশ। মানবতার স্বার্থে আমাজনের দাবানল নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিল সরকারসহ বিশ্বসমাজ সক্রিয় হবে বলেই আমরা মনে করি। পৃথিবীর হৃৎপিন্ড রক্ষায় সব দেশের মানুষের ঐকমত্য এখন সময়ের দাবি।


