সাগরে বালকের লুঙ্গি কারামতি, তিনদিন পর জীবিত উদ্ধার কিশোর
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গুলশান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজকীয় কিছু অনুষ্ঠানে এই লুঙ্গি পরে প্রবেশে কতরকম বাধার গল্প আমরা পড়েছি। লুঙ্গি পরে অসহায় গরিব মানুষদের রিকশা চালানোর সুযোগ দিতে বারণ করেছিল গুলশান আবাসিক কর্তৃপক্ষ। দেশের জাতীয় এই পোশাকের কদর চিন্তা তারা করেনি মোটেও। রাজধানীতে অনেক অনুষ্ঠানে কেবল লুঙ্গি পরার অপরাধে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এবার লুঙ্গি কারামতি দেখিয়ে দারুণ উপভোগ্য ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এক বিস্ময়বালক। সম্প্রতি এই ঘটনাটির জন্ম দিয়েছেন ইমরান।
সাগরে লুঙ্গি ফুলিয়ে তিন দিন পর্যন্ত সাগরে ভেসে ভেসে নিজেকে লক্ষা করেছেন ইমরান। আমরা কাকদ্বীপের মৎস্যজীবী রবীন্দ্রনাথ দাসের কথা জানি। তাকে বাংলাদেশের মানুষেরা সাগর থেকে জীবিত উদ্ধার করে ভারতের হাতে তুলে দেয় বাংলাদেশ সরকার। বঙ্গোপসাগরে গত জুলাইয়ে ট্রলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে টানা পাঁচ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর বাংলাদেশের একটি জাহাজ উদ্ধার করেছিল তাকে।
ঠিক তেমনই বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে বেরিয়ে ঢেউয়ের তোড়ে বাংলাদেশি ট্রলার থেকে সাগরে ছিটকে পড়ে যায় এক বাংলাদেশি কিশোর জেলে। তারপর তিন দিন ধরে সাগরেই ভাসছিল সে। অবশেষে ভারত-বাংলাদেশ সাগর সীমানা থেকে বাংলাদেশি মৎস্যজীবী ইমরান খানকে উদ্ধার করে ভারতীয় মৎস্যজীবীদের একটি ট্রলার।
ইমরান বাংলাদেশের পাথরঘাটা থানা এলাকার বরগুনার চরের ঘোরানি গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার সকালে উদ্ধারকারী ভারতীয় ট্রলার রায়দিঘি ঘাটে ভেড়ার পর ইমরানকে রায়দিঘি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে ইমরানকে রায়দিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ইমরান জানান, সপ্তাহখানেক আগে ১২ জন মৎস্যজীবীর সঙ্গে সে একটি ট্রলারে চেপে সাগরে মাছ ধরতে বেরিয়েছিল। দুর্ঘটনার সময় ট্রলারের উপরেই ছিল। সাগর থেকে পানি তোলার জন্য বালতি ফেলার সময় ঢেউয়ের তোড়ে ভারসাম্য হারিয়ে উত্তাল সাগরে পড়ে যায় সে। লাইফ জ্যাকেট না থাকায় পরনের লুঙ্গি খুলে হাওয়া ঢুকিয়ে ফুলিয়ে ধরে ভাসতে থাকে। এভাবে তিন দিন ভেসে থাকার পর সে ভারতীয় ট্রলারের চোখে পড়ে।
উদ্ধারকারী ট্রলারের মাঝি মনোরঞ্জন দাস বলেন, গত রোববার রায়দিঘি থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে বেরিয়েছিলাম। সাগরে আমাদের মৎস্যজীবীদের নজরে আসে কেউ একজন ভাসছে। কাছে গিয়ে দেখি এক কিশোর পরনের লুঙ্গি ফুলিয়ে আঁকড়ে ধরে ভাসছে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ট্রলারে তুলে আনি। নতুন পোশাক দিয়ে খাবার দেয়া হয়। একটু সুস্থ হলে সে তার নাম-ঠিকানা জানায়। কিন্তু পরে সে অসুস্থ বোধ করায় আমরা তড়িঘড়ি করে ঘাটে ফিরে আসি।
এরই মধ্যে রায়দিঘি ফিশারম্যান ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মৎস্যজীবী সংগঠন সূত্রে খবর, মৎস্যজীবী উদ্ধারের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা শাসক সুকান্ত সাহা বলেন, সুস্থ হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই মৎস্যজীবীকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।


