নিজস্ব প্রতিবেদক : ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে এবার ঈদের বাজারে যুক্ত হয়েছে জার্সি; ফুটপাথ থেকে শুরু করে শপিং কমপ্লেক্সের টি-শার্টের দোকান পর্যন্ত ছেয়ে গেছে বিভিন্ন দলের ও খেলোয়ারদের নামে জার্সিতে।ঈদে স্বজনদের উপহার দেওয়ার পাশাপাশি প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে এবং খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে তারা জার্সি কিনছেন।বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোট চার ধরনের জার্সি মিলছে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে- থাই, সেমি থাই, চায়নিজ ও দেশি। এগুলোর মধ্যে ক্রেতারা ‘সেমি থাই’ জার্সিই পছন্দের প্রথমে রাখছেন; মিলছে বাচ্চাদের মাপে বানানো জার্সিও।খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রেতা ‘স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড’ এর ঢাকায় সাতটি আউটলেটের সবকয়টিতে রোজার শুরু থেকেই পুরোদমে জার্সি বিক্রি চলছে বলে জানান গুলশান-২ নম্বরের ডিসিসি মার্কেট আউটলেটের ব্যবস্থাপক মো. নাসিমুল হক। তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড কাপ এলে বিক্রি এমনিতেই বাড়ে। তবে একই সময়ে ঈদ পড়ে যাওয়ায় এবার বিশেষ বাজার তৈরি হয়েছে।“ওয়ার্ল্ড কাপ উপলক্ষে হোম জার্সির চাহিদা বেশি, তবে সবসময় পড়ার জন্য অ্যাওয়ে জার্সিটাই সবার বেশি পছন্দ। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স ও পর্তুগালের জার্সির চাহিদা রয়েছে।”নাসিমুলের দাবি, বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলোয়াররা মাঠে যে জার্সি পড়ে খেলতে নামবে তারা সিঙ্গাপুর থেকে সেটির ‘ফার্স্ট কোয়ালিটি’ হুবহু কপি আমদানি করছেন, যার দাম রাখা হচ্ছে দশ হাজার টাকা।তিনি জানান, তাদের দোকানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে থাইল্যান্ডের কাপড়ে চীনে বানানো ‘থাই কোয়ালিটি’র জার্সির, যেগুলো মিলবে ১২৯০ টাকা থেকে ২৯৯০ নব্বই টাকার মধ্যে। পাশাপাশি চার-পাঁচ শ’ টাকায় চীনা জার্সিগুলো পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।স্পোর্টস ওয়ার্ল্ডের ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক পেইজ থেকেও জার্সি অর্ডার করতে পারছেন ক্রেতারা।
‘জার্সি ফ্রিক বিডি’ নামে শুধু জার্সির দুটি দোকান রয়েছে ঢাকার বনশ্রী ও তালতলায়। মে মাসের শুরু থেকেই সেখানে জার্সি বিক্রি শুরু হয়ে গেছে বলে জানান এর মালিকদের একজন ইমরান হোসেন। শুধু ‘থাই কোয়ালিটি’র জার্সি মিলবে তাদের দোকান ও ফেইসবুক পেইজে।ইমরান বলেন, “ঈদ বাজারের পোশাক-পরিচ্ছদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এবার জার্সি বিক্রি হচ্ছে। আমাদের একটি কাস্টমাইজড অপশন রয়েছে- কেউ যদি জার্সিতে নাম বা নম্বর বসাতে চায় আমরা সেটি করে দেই।”জার্সি ফ্রিক বিডিতে কেবল থাই কোয়ালিটির জার্সি ৯৪৫ টাকায় মিলবে; বাচ্চাদের জার্সিও রয়েছে এই দোকানে।একবছর ধরে খোলা ফেইবুক পেইজ ‘স্পোর্টস ক্যাসেল’ খেলাধুলা সংক্রান্ত পোশাক তৈরি করে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ইতোমধ্যেই। অন্য সময় কাস্টমাইজড টি শার্ট, ক্রিকেট জার্সি বিক্রি করলেও ওয়ার্ল্ড কাপ উপলক্ষে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন জার্সি বিক্রিতে।পেইজের অ্যাডমিনদের একজন আহমেদ জামিল রাসেল বলেন, “জার্সির চাহিদা বেড়ে গেছে গতমাস থেকেই। ১০ তারিখের পর আরও বাড়বে বলে মনে করছি। পেইজে অনেক অর্ডার পাচ্ছি প্রতিদিনই। যারা খেলা দেখে না ওয়ার্ল্ড কাপ উপলক্ষে তারা পর্যন্ত জার্সি কিনছে, কাপল জার্সি বিক্রি হচ্ছে খুব।”এখানে থাই কোয়ালিটির জার্সি মিলবে ৯০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে আর চীনা কোয়ালিটির মিলবে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকার মধ্যে। বাচ্চাদেরও অফিসিয়াল জার্সি বিক্রি করছে স্পোর্টস ক্যাসেল।জাতীয় দলের ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি সমর্থন করেন আর্জেন্টিনা দলকে; জানালেন এর মধ্যেই ঈদ উপহার হিসেবে পেয়েছেন কয়েকটি জার্সি।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “নিজের জন্য আর কেনা লাগবে না। এখন উপহার দিতে কিনব। আর আমার ছেলের জন্য অবশ্যই একটা কিনব।”একটি অনলাইন পেইজ থেকে সেমি থাই মানের জার্মানির পাঁচটি হোম ও থাই মানের তিনটি অ্যাওয়ে জার্সি কিনেছেন কলেজ ছাত্র শান্তনু মজুমদার।তিনি বলেন, “আমরা পাঁচবন্ধু একসাথে খেলা দেখব। ঈদের ছুটি আর খেলা…অন্য দলের সমর্থক বন্ধুরাও থাকবে। সবাই জার্সি পড়েই খেলা দেখব।”সারাবছর টি শার্ট বিক্রি করে এমন প্রায় সব অনলাইন পেইজসহ বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউ মার্কেট, টোকিয়ো স্কয়ার এসব শপিং কমপ্লেক্সে ও এলিফ্যান্ট রোডেও ছেলেদের পোশাকের দোকানে নানা মানের জার্সি মিলছে।
বসুন্ধরা সিটির একটি দোকান থেকে ব্রাজিলের জার্সি কিনে আদিবা আনজুম বলেন, “ঈদের শপিংয়ে এসেছি। কাজিনদের সাথে ঈদ করব, জার্সি না থাকলে খেলা দেখে মজাই পাব না, তাই কিনে ফেললাম। দেশি-বিদেশি জার্সির সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে ঢাকার গুলিস্তান। সেখান থেকেই সারাদেশে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জার্সি কিনে নেন, খুচরা বিক্রিও হয়। গুলিস্তানের সমবায় টুইন টাওয়ার, রেলওয়ে সুপার মার্কেট ও গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স- এই তিনটি মার্কেটের পুরোটাই খেলাধুলার সামগ্রী ও জার্সি বিক্রয়ের কেন্দ্রবিন্দু। দেশি কারখানায় বানানো জার্সি থেকে শুরু করে আমদানিকৃত জার্সি সবই মিলবে এই তিন জায়গায়। সমবায় টুইন টাওয়ারের দোকান ‘স্পোর্টস ভিশন’ এর মালিক মো. কবির হোসেন জানান, রোজার মাসের শুরু থেকেই তার দোকান থেকে দিনে প্রায় হাজারখানেক জার্সি দেশের বিভিন্ন দোকান মালিকরা এসে কিনে নিয়ে যান। থাই কোয়ালিটির জার্সি তার দোকানে মিলবে পাইকারি ৭০০ টাকায় এবং খুচরা ৮০০ টাকায়। সেমি থাই পাইকারি ৫০০ ও খুচরা ৬০০ টাকায় এবং চীনাগুলো মিলবে ৪০০-৪৫০ টাকায়। কবির বলেন, “দম ফেলার সময় পাইতেছি না। ঢাকার বাইরে জার্সির চাহিদা বেশি। ঢাকার বাইরে ভালো কোয়ালিটির গুলা পাওয়া যায় না তো! একই শপিং কমপ্লেক্সে ‘বিসমিল্লাহ স্পোর্টস’ এর কর্মচারী জসীম আহমেদ জানান, তাদের দোকানে দেশি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে তৈরি জার্সি পাওয়া যাচ্ছে, যার দাম রাখা হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া আরেকটু ভালো মানের জার্সি রয়েছে, যেগুলো মিলবে ২০০ টাকায়। এছাড়া ঢাকা কলেজের উল্টো পাশে ঢাকার মিরপুর রোডের দোকানগুলোতেও জার্সি মিলছে, যেগুলোর দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা। সেখানেও শার্ট-প্যান্ট কিনতে আসা বেশিরভাগ ক্রেতারা মধ্যম মানের জার্সি কিনে নিচ্ছেন।
______________
patheo24/105


