সাময়িক পরাজয়ে ডরে না বীর | শেখ ফজলুল করীম মারুফ

সাময়িক পরাজয়ে ডরে না বীর | শেখ ফজলুল করীম মারুফ

সাময়িক পরাজয়ে ডরে না বীর | শেখ ফজলুল করীম মারুফ

আলহামদুলিল্লাহ!

إِنَّا لَنَنصُرُ رُسُلَنَا وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ ٱلْأَشْهَٰدُ

অর্থঃ আমি সাহায্য করব রসূলগণকে ও মুমিনগণকে পার্থিব জীবনে ও সাক্ষীদের দন্ডায়মান হওয়ার দিবসে।

সূরা আল মু’মিন, আয়াত: ৫১

فَٱصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّ وَٱسْتَغْفِرْ لِذَنۢبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِٱلْعَشِىِّ وَٱلْإِبْكَٰرِ

অর্থঃ অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।

সূরা আল মু’মিন, আয়াত: ৫৫

মুমিনদেরকে পরকালে তো সাহায্য করা হবেই একই সাথে দুনিয়াতেও সাহায্য করা হবে বলে মহান আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করে ঘোষণা দিয়েছেন। এবং পরের এক আয়াতে আবারো জোড় দিয়ে বলেছেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য।

আমরা যারা স্থান-কালের পরিসীমায় আবদ্ধ তাদের কাছে এই আয়াত দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। দৃশ্যত মুমিনরা পরাজিত হচ্ছে, অনেক নবীকে হত্যা করা হয়েছে, অনেক নবী শত শত বছর ধরে দাওয়াত দিয়েও মাত্র গুটিকয়েককে ইমানদার বানাতে পেরেছেন। এমন পরিস্থিতিতেও উপর্যুক্ত আয়াত অনুধাবন করতে হলে স্থান-কালের সীমা অতিক্রম করতে হবে এবং সাফল্যের সংজ্ঞা বদলাতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত পর্যন্ত বহমান একটি আন্দোলন। এই আন্দোলনের সর্বশেষ ধারার বয়সও চৌদ্দ শত বছর হয়ে গেছে এবং আগামীতেও আরো হাজার বছর বা আরো বেশী বছর এটা বহমান থাকবে। ইসলামী আন্দোলনের যেকোন জয়-পরাজয়কে এই দীর্ঘ সময়কাল মাথায় রেখে বিবেচনা করতে হয়।

তায়েফে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর রক্তাক্ত হওয়া বহুবছর পরে সাফল্যে পরিণত হয়েছে।

জয়-পরাজয়ের সংজ্ঞাও ইসলামে ভিন্ন। কারবালায় নিহত হোসাইন রাঃ যে ইতিহাসের বিজয়ী বীর আর সেইদিনের জয়ী সিমার যে ইতিহাসের পরাজিত ব্যক্তি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ইসলামী আন্দোলনে জয়-পরাজয়ের মূল কথা হলো,

“নিষ্ঠার সাথে আদর্শে অবিচল থেকে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।”

এটা করার পরেও যদি বস্তুগত সাফল্য না আসে তাহলে তার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা আবারো মনে করিয়ে দিতে চাই,

فَٱصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّ وَٱسْتَغْفِرْ لِذَنۢبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِٱلْعَشِىِّ وَٱلْإِبْكَٰرِ

অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।

সূরা আল মু’মিন, আয়াত: ৫৫

এই আয়াত জয়-পরাজয় নিয়ে আমাদের মনের সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আমাদের সৃষ্টিকর্তা, আমাদের প্রতিপালক মহাশক্তিমান আল্লাহ যখন তাকিদ দিয়ে বলেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য তখন আমাদের আর কোন সংশয় থাকা সম্ভব না।

আল হামদুলিল্লাহ!
আমাদের মনে জয়-পরাজয় নিয়ে কোন সংশয় নেই। আমাদের মালিকের কথাই নিঃসন্দেহে সত্য। তিনি আমাদের সাহায্য করেছেন, বর্তমানেও করছেন এবং আগামীতেও করবেন।

এখন আমাদের কাজ হলো, তার নির্দেশনা মান্য করা।

তিনি এই আয়াতে আমাদের তিনটি নির্দেশনা দিয়েছেন।

১. ধৈর্য ধারণ করা। তাগুতের আস্ফালনের ওপরে ধৈর্য, তাগুতের কৃত্রিম বিজয় উল্লাসের ক্ষেত্রে ধৈর্য, নিজের পরিশ্রমের ফল তুলতে না পারার ওপরে ধৈর্য। সামগ্রিক সব কিছুর ওপরে পূর্ণাঙ্গ ধৈর্য।

২. আল্লাহর কাছে নিজেদের গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। আমাদের আত্মনিবেদনে ঘাটতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। আমাদের সামগ্রিক কাজকর্মের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।

৩. সকাল-সন্ধ্যা মহান আল্লাহ তায়ালার প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা বর্ণনা করা।(জিকির করা)।

লেখক : শিক্ষক ও রাজনীতিক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *