সাহাবা যুগে মহামারী এবং আজকের করোনা

সাহাবা যুগে মহামারী এবং আজকের করোনা

সাহাবা যুগে মহামারী এবং আজকের করোনা

মাওলানা আমিনুল ইসলাম :: বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো করোনা ভাইরাস। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এটা ছড়িয়ে পড়েছে। কোন ভাইরাস এভাবে বিশ্বের সর্বত্র এর আগে কখনো আমরা ছড়িয়ে পড়তে দেখিনি। অতি অল্প সময়ে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।বহু মানুষ ভয়ে অস্থির।

মূলত মানুষের সবচেয়ে বড় ভয় মৃত্যুর ভয়। কোন মানুষ চায়না সহজে মৃত্যু বরণ করবে। কিন্তু এক অজানা রোগ ব্যধিতে মানুষ মরে যাচ্ছে। যার চিকিৎসা এখনো বিজ্ঞান আবিষ্কার করতে পারেনি। যদিও তুলনামূলক করোনায় মৃত্যুর হার কম, কিন্তু তারপরেও মানুষের ভয় অনেক বেশী। এর কারণ হল, এই করোনার এন্টি ভাইরাস আবিষ্কার হয়নি বিধায় মানুষ বেশী ভয় পাচ্ছে।

অথচ মানুষ কিন্তু অন্যান্য রোগ- ব্যাধি এবং বিভিন্ন কায়দায় মানুষ দুনিয়া ছাড়ছে, তাতে কিন্তু এতটা ভীত হচ্ছে না, যতটা ভয় পাচ্ছে করোনা ভাইরাসকে।

তবে এই করোনা ভাইরাস সস্পর্কে ইসলামী স্কলারগণ এবং যারা ইসলামী বিশ্বের রাহবার, যাদেরকে মানুষ অনুসরণ করে, তাদের কি মতামত সেটা আমাদের ফলো করা উচিত। আমি যতটুকু জানি, বর্তমান ইসলামী বিশ্বের যারা পথপ্রদর্শক, তারা কিন্তু আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছেন। অবশ্য সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন। আর এই সতর্কতা অবলম্বন করা, সাবধানে চলা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়।

সাহাবায়ে কেরামের জামানায় এধরনের এক মহামারী দেখা দিয়েছিল। বহু সাহাবী ইন্তেকাল করেছিলেন সেই মহামারীতে। এমনকি আশারায়ে মুবাশ্বেরা সাহাবী আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ তিনিও ইন্তেকাল করেছিলেন।

সে সময়ে খলিফা ছিলেন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি সেই এলাকায় যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে পরামর্শ হল, সেখানে না যাওয়ার। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোথাও মহামারী দেখা দিলে, সেখানে কেউ যাবে না, আবার সে স্থান থেকে কোন লোক অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করবে না। ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহ আনহু তাঁর যাত্রা ক্যান্সেল করলেন। তিনি আর সেই এলাকায় গেলেন না।

আমাদের ওলামায়ে কেরাম এবং ইসলামী চিন্তাবিদগণ কিন্তু এই পরামর্শ দিচ্ছেন। যেখানে মহামারি সেখানে যেন কেউ না যায়। আবার ঐ স্থান থেকে কেউ বের হবে না। এই দিকে লক্ষ্য করে হারামাইন শরীফাইনে সকল দেশের মানুষের ভিসা বন্ধ করা হয়েছে। এমনকি সৌদি আরবের অভ্যন্তরিণ লোকজন, যারা মক্কা- মদিনার বাইরে, তাদেরকেও আসতে নিষেধ করা হয়েছে। একদম বড় আকারে নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে মসজিদে হারাম এবং মসজিদে নববীকে।

হারাম শরীফের ইমাম শায়েখ সুদাইসী সাহেব সৌদি সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এবং তিনি মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। বিশেষ করে পরিষ্কার – পরিচ্ছন্নতার দিকে বেশী নজর রাখতে বলেছেন। সুদাইসী সাহেব নিজে পরিচ্ছন্নতার দিকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বারোপ করেছেন।

পাকিস্তানের আল্লামা তকী উসমানী সাহেব তিনিও বলেছেন, আতঙ্কিত হওয়া যাবেনা। তিনি দৈনন্দিন মুসলিমদেরকে আমলের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। বিভিন্ন ধরনের দুআর ইহতেমাম করতে বলছেন।

যেমন দুআ ইউনুছ, ” লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বলেমিন” এটা বেশী বেশী পড়তে বলেছেন।
প্রতি নামাজে পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করে নিজের শরীরে ফুক দেওয়ার কথা বলেছেন। সেই সাথে ছোট বাচ্চাদেরকেও ফুঁক দিবেন।

আরেক বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী স্কলার আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব, তিনি বেশী বেশী তাওবা ইস্তেগফার পড়তে বলেছেন।প্রত্যেক মানুষকে গোনাহ ত্যাগ করে আল্লাহ তায়ালার ফরমাবরদার হতে বলেছেন। চরমোনাই এর পীর সাহেব সৈয়দ রেজাউল করীম সাহেব, তিনি বলেছেন, করোনা ভাইরাস, এটা এক ধরনের গজব। সুতরাং তওবা – ইস্তেগফার করে গোনাহ থেকে ফিরে আসতে হবে।

এভাবে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল ইসলামী চিন্তা বিদদের একই কথা, আমরা আল্লাহর দিকে মুতাওয়াজ্জুহ হই। গোনাহ ছেড়ে দেই। এবং নেক আমল বেশী বেশী করি। অনেক ওলামায়ে কেরাম এই দুআটি পড়তে বলেছেন। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারছি ওয়াল জুনুনে ওয়াল জুজাম, ওয়া মিন ছায়্যিয়িল আছকাম।

এজন্য বন্ধু আসুন! আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর দিকে রুজু হই। আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করি। নিজের গোনাহের কথা স্মরণ করে আল্লাহর কাছে তাওবা করি। আরেকটা বিষয় খেয়াল করা দরকার। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন। আপাতত দেশে না ফেরাটা ভাল। যে যেখানে আছেন, সেখানে থাকুন। দুআ করুন বিশ্ব বাসীর জন্য।

আমাদের সরকার এ বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকার মহল থেকেও বলা হচ্ছে, আপনারা কেউ আপাতত দেশে ফিরবেন না। সরকারের সিদ্ধান্তটা সঠিক। সবাই ধৈর্য ধরুন। দুআ করুন। আল্লাহ তায়ালা সকলকে হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *