সুইডিশ নারী ফুটবল দল অধিনায়কের ইসলাম গ্রহণ

সুইডিশ নারী ফুটবল দল অধিনায়কের ইসলাম গ্রহণ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সুইডেনের জাতীয় নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক রঞ্জা অ্যান্ডারসন (১( ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।সম্প্রতি দেশটির জাতীয় দৈনিক ‘এক্সপ্রেসেন’ এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সুইডেনের জাতীয় নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক রঞ্জা অ্যান্ডারসন বলেন, দীর্ঘ গবেষণার পর আমি সিদ্ধান্তে এসেছি ইসলামই আমার জন্য উপযুক্ত ধর্ম। মানুষ আমার এ সিদ্ধান্ত জেনে ঘৃণা প্রকাশ করছে। কিন্তু মুসলিম হিসেবে আমি গর্ব বোধ করি।

১৯ বছর বয়সী রঞ্জা বলেন, ১৫ বছর বয়সেই ছেলেবন্ধুর হাত ধরে ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধর্মটির ব্যাপারে জ্ঞানার্জন করেন। আমি দেখেছি, ইসলামে অনেক সুন্দর জিনিস রয়েছে। যা আমাকে আকর্ষণ করেছে। এরপর আমি মসজিদে যেতে শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, এখন আমার জীবনে একধরণের প্রশান্তি অনুভব করি আমি। আমার মনে হয় আমি আমার কাঙ্খিত সত্য পথ পেয়ে গেছি। যে পথ শান্তি ও সফলতার।

সুইডেনের মুসলিম কাউন্সিলের হিসাব মতে দেশটিতে সাড়ে তিন লাখ ইসলাম ধর্মাবলম্বী রয়েছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য মতে, বিশ্বের ৭শ’ ৭০ কোটি মোট জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিমের সংখ্যা একশো ৮০ কোটি। পৃথিবীর মোট জনগোষ্ঠীর ২৪% শতাংশ ধর্মাবলম্বী নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হলো ইসলাম। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ বিশ্বাস করেন খ্রিষ্টান ধর্মে।

প্রসঙ্গত, এক সময় সুইডেনে কোথাও কোথাও আজানের অনুমতি ছিলো না। এখন দক্ষিণ সুইডেনের শহর ভাক্সজোতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে নামাজের জন্য আজান দেওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়ছে। ২০১৮ সালের ১১ মে স্থানীয় পুলিশ স্থানীয় মুসলমানদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই অনুমতি প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিশপ ফ্রেডরিক মডেউস পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি মন্তব্য করেন, এর মাধ্যমে সুইডেন তার নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শহরটির স্থানীয় মুসলমান সম্প্রদায় মসজিদে আজান প্রচারের অনুমতি চেয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে। অবশ্য সুইডেন রাজনীতিতেও মুসলমানদেরও রয়েছে উপস্থিতি। সুইডেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৭ জন মুসলিম সদস্য বিজয়ী হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন নারী সদস্য রয়েছেন।

২০১১ সালের যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মতে সুইডেনে বর্তমানে প্রায় পাঁচ লক্ষ মুসলমান বসবাস করে। ২০১৩ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ সুইডেনের ফিতজা মসজিদে প্রথম আজান প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *