সৌদিতে শ্রমিক ধরপাকড়, প্রবাসীদের জীবন অনিশ্চয়তায়
পাথেয় রিপোর্ট : সৌদিতে বসবাস করে এমন অনেক সূত্র থেকে খবর পাওয়া গেছে, চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন সৌদিতে শ্রমিক হিসেবে যারা কাজ করছেন। হাতে আকামা থাকলেও পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। এবার ধরপাকড় শুরু হলে ২০০ বাংলাদেশিকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে হয়েছে। এদের মধ্যে একজন আকমত আলী। তার আকামার মেয়াদ (বৈধ অনুমোদন) আরও ১০ মাস থাকার পরও থাকতে পারেননি সৌদিতে।
আকমত আলীসহ বরাবরের মতো শুক্রবারও দেশে ফেরা কর্মীদের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর সহায়তা দেয় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
চলতি বছর ১৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশি সৌদি আরব থেকে ফেরত এলো। এর মধ্যে চলতি মাসেই ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের সহযোগিতায় ৮০৪ জনকে ব্র্যাক সহযোগিতা করলো। এবার ফেরাদের মধ্যে একদিনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মী এলেন শুক্রবার।
শুক্রবার ফেরত আসা গোপালগঞ্জের ছেলে সম্রাট শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আট মাসের আকামা ছিল তার। নামাজ পড়ে বের হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে, কোনো কিছুই না দেখে দেশে পাঠিয়ে দেয়।
ফেরত আসা সাইফুল ইসলামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তার অভিযোগ, আকামার মেয়াদ দেখানোর পরেও তাকে দেশে পাঠানো হয়েছে। সাইফুল ইসলাম বলেন, সবেমাত্র ৯ মাস আগে সৌদি গিয়েছিলেন, আকামার মেয়াদও ছিল ছয় মাস।
চট্টগ্রাম জেলার আব্দুল্লাহ বলেন, আকামা তৈরির জন্য আট হাজার রিয়াল জমা দিয়েছেন কফিলকে। কিন্তু পুলিশ গ্রেফতারের পর কফিল কোনো দায়িত্ব নেয়নি।
ফেরত আসা কর্মীরা সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। আর কাউকে যেন তাদের মতো পরিস্থিতির শিকার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য করা না হয়, সে দাবিও করেন।


