সৌদি বাদশার সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করলেন আল্লামা মাসঊদ
পাথেয় রিপোর্ট : সৌদি আরবে সফর সুন্দরভাবে সমাপ্ত হওয়ায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর মর্জিতে আমার পবিত্র ওমরাহ্ পালন ও রাবেতাতুল আলম আল ইসলামীর দাওয়াতি সফর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ সফরে আল্লাহর রহমত আমার সাথে ছিল বিধায় আল্লাহর এতবেশী নেয়ামত পেয়েছি যে তার কৃতজ্ঞতা আদায় করার ভাষা আমার নেই । আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সফর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।
০২ জুন ২০১৯ রোববার রাজধানীর খিলগাঁর ইকরা বাংলাদেশ মসজিদ কমপ্লেক্সে ইতেকাফরত মুসল্লীদের উদ্দেশে আল্লামা মাসঊদ এসব কথা বলেন।
আল্লামা মাসঊদ সফরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রতি রমজানের শেষ দশকে সাধারণত আমি মুহিব্বীন ও খোলাফাদের নিয়ে হাজীপাড়া ঝিল মসজিদে ইতেকাফ করি। এবারও আমার এমনই ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আল্লাহর মর্জি, আল্লাহ তা’আলা এবার আমাকে রমজানে পবিত্র কা’বা জিয়ারত ও ওমরাহ্ পালনের তাওফিক দিয়েছেন। সফরে আমি চারদিন ব্যাপী রাবেতাতুল আলম আল ইসলামীর অনুষ্ঠিতব্য সেমিনারে অংশ গ্রহণ করি এবং বক্তব্য রাখি। এছাড়াও সৌদিআরবের বাদশাহর বাড়িতে বিশেষ মেহমান হই এবং গত ২৬ রমজান তাঁর বাড়িতে একসঙ্গে বসে সেহরি খেলাম । যার সৌভাগ্য সেমিনারে আগত ১৬০০ অতিথির মধ্যে কেবল ১৪ জনের হয়। আল্লাহ তা’আলা আমাকে যে নেয়ামত দিয়েছেন আমি তার শুকরিয়া আদায় করে কখনো শেষ করতে পারবো না।
আল্লামা মাসঊদ ঝিল মসজিদে ইতেকাফকারী মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, রমজানের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো আল্লাহর ইবাদাতের তাওফিক হওয়া। আল্লাহর রহমত সরে গেলে মানুষ একসেকেন্ডও ঠিকে থাকতে পারবে না। বান্দার প্রতি আল্লাহর সবচেয়ে বড় এহসান হলো তার গোলামীর স্বীকৃতি আদায়। আল্লাহ তা’আলা আমাদের যে নেয়ামত দিয়েছেন তার শুকরিয়া আদায় করতে হবে। যে যত শুকরিয়া আদায় করবে তার নেয়ামত তত বাড়িয়ে দেওয়া হবে। কোনকিছু করার পূর্বে আল্লাহ তা’আলা শর্তারোপ করেননি । কেবলই নেয়ামত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্তারোপ করে বলেছেন যে, যে শুকরিয়া আদায় করে তার নেয়ামত বাড়িয়ে দিবেন।(সূরা ইবরাহিম। আয়াত ৭)
আল্লামা মাসঊদ ইতেকাফকারীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, অন্যবছর মু’তাকিফিনদের সংখ্যা আমি থাকা সত্ত্বেও আরো কম থাকতো। এবছর আমি ছিলাম না তবুও দেখছি মুতাকিফিনদের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে । কোন সন্দেহ নাই যে আপনারা কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যেই এসেছেন। আমি ওমরাহ্ থাকাবস্থায় আপনাদের জন্য বিশেষভাবে দু’আ করেছি। পবিত্র হেরেম শরীফে বসে দু’আ করেছি । বায়তুল্লাহর গিলাফ ছুঁয়ে দু’আ করেছি।কোনসন্দেহ নাই যে আল্লাহ তা’আলা আপনাদের কবুল করে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, মারেফাতের সবচেয়ে উঁচু স্তর হলো তাওহীদ। মুতাকিফিনদের সংখ্যা অধিক হওয়া তাওহীদের লক্ষণ।
উল্লেখ্য, বিগত কিছুদিন আগে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শায়খুল হাদীস আল্লামা ফরীদ ঊদ্দীন মাসঊদ দাঃবাঃ পবিত্র ওমরাহ্ পালন ও রাবেতায়ে আদবে আলমে ইসলামীর সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে পবিত্র মক্কা গমন করেন। সেমিনার শেষে গতকাল (১ই জুন শনিবার) রাত এগারটা ২০ মিনিটে তিনি হযরত শাহ জালাল বিমানবন্দরে ল্যান্ড করেন।
গ্রন্থনা : আহমাদ কাশফী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


