পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এড়াতে বারবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হলেও সাধারণ জনগন তার কোনও তোয়াক্কা করছে না। এই করোনা সংকটে স্বাস্থ্যবিধিকে রীতিমতো বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়।
আসন্ন ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র সাত দিন। ঈদ শপিং করতে হাজার মানুষের ঢল নেমেছে ঢাকা নিউ মার্কেটে। ভিড়ের মধ্যে দোকানে দোকানে ঘুরে শপিং করছেন ক্রেতারা। তবে তাদের দেখে কারও মনে হবে না, বর্তমান সময়টি করোনা মহামারির। করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এবং সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব একেবারেই উপেক্ষিত ঈদ শপিংয়ের কাছে।
পুরো চিত্র দেখে মনে হয়, করোনার ভয়াবহতা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে নগরী। এমন পরিস্থিতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এরকম জনসমাগম হলে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে ঢাকা নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হাজারও মানুষের ভিড় রয়েছে ওই এলাকায়। ফুটপাতে রয়েছে হকারদের হাঁকডাক। পথচারীদের চলতি পথে ধাক্কা লাগছে একে অপরের সঙ্গে। জনসাধারণকে ভিড়ের মধ্যে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে পোশাক, জুতাসহ নানা জিনিসের দরদাম করতে দেখা গেছে। এ তো গেল রাস্তার চিত্র। নিউ মার্কেট, চন্দ্রিমা মার্কেট, নূর জাহান শপিং কমপ্লেক্সসহ ওই এলাকার বেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেটের প্রায় প্রতিটি গলিই লোকে লোকারণ্য। বলতে গেলে তিল পরিমাণ জায়গা নেই সেখানে। কেউ দিচ্ছেন পোশাক ট্রায়াল আবার কেউ করছেন দাম।
এদিকে প্রতিটি মার্কেটের সামনে ফুল বডি স্যানিটাইজার মেশিন থাকলেও দু-একটি ছাড়া বাকিগুলোকে চলতে দেখা যায়নি। নিউমার্কেটে আসা ক্রেতারা জানান, দীর্ঘ সময় শপিং করতে না পারায় আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা। তবে করোনা সংক্রমণ নিয়ে ভয়ে আছেন তারা।
ধানমন্ডি থেকে আসা রায়হানুল হক বলেন, ‘মার্চ মাসের পরে আর শপিং করা হয়নি। গত ঈদেও কিছু কিনতে পারিনি পরিবারের জন্য। যেহেতু এবার একটু সুযোগ আছে, তাই কেনাকাটা করতে এসেছিলাম। তবে এসে এরকম একটা ভয়াবহ অবস্থা মধ্যে পড়বো, সেটা ভাবিনি।’
লালবাগ থেকে মেয়েকে নিয়ে শপিংয়ে আসা কানিজ সুলতানা বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে পরিবারের জন্য শপিংয়ে এসেছি। তবে করোনার এই সময়ে সাত দিন আগেই এরকম ভিড় হবে, এটা ভাবতে পারিনি। আজকের যে অবস্থা, তাতে করোনার সংক্রমণ নিয়ে নিজেই ভয়ে আছি।’
হাজারও মানুষের ঢল নামলেও বিক্রি তেমন একটা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন বিক্রেতারা। তারা বলছেন, এখনও লোকজন মার্কেটে দেখতে আসে। আবার একজন ক্রেতার সঙ্গে তিনজন আসে। তাই লোকজন অনেক বেশি মনে হলেও বিক্রি তেমন নেই। নুরজাহান মার্কেট ব্যবসায়ী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘ঈদের মৌসুম হলেও খুব একটা বেচাবিক্রি নেই। হাজারও মানুষ দেখে যেমনটা মনে হচ্ছে, আসল চিত্র তেমনটা না। আপনি কিছুটা সময় দাঁড়ালে বিষয়টা বুঝতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘করোনার সময়েও কাস্টমার কাপড় ট্রায়াল করতে চায়। তাদের না বলার সুযোগ নেই। কারণ আমি না করলেও পাশের দোকানে হয়তো সেই সুযোগটা পাবেন। এতে করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আমরা নিজেরাই আছি।’
করোনাভাইরাস সংক্রমণে এমন জনসমাগম কতটা বিপজ্জনক? এমন প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ভাইরোলজিস্ট ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ঘটনা থেকে করোনাভাইরাস জাস্ট ছড়িয়ে যাবে। আমাদের কোনও দিক থেকে কোনও কার্যক্রমই ঠিকঠাকভাবে চলতে দেখছি না। কেউ সিরিয়াসলি বিষয়টাকে নিয়ে দেখছে, এমনটা মনে হচ্ছে না। সবকিছুতেই কেমন যেন একটা ঢিলেঢালাভাব। শুধু এটুকুই বলবো, এমন পরিস্থিতিতে এরকম জনসমাগম করতে দেওয়াটা উচিত নয়।’
/এএ


