পাথেয় ডেস্ক (নয়াদিল্লী) : ভারতের উত্তরাঞ্চলের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হাইকোর্ট থেকে ৩০ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার ফাতওয়া দেয়া নিষিদ্ধ বলে যে রায় দেয়া হয়েছে, সেই রায়ের বিরুদ্ধে ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেছেন।
ভারতে ডেইলি হামারা সমাজে প্রকাশিত সংবাদে এই খবর জানা যায়।
মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, উত্তরাখণ্ডের হাইকোর্ট থেকে ফাতওয়া নিষিদ্ধ বলে যে রায় দেয়া হয়েছে, এই রায় সুপ্রিমকোর্টের সংবিধানের ২৬ নং অনুচ্ছেদের বিপরিত হয়েছে।
মাহমুদ মাদানী বলেন, ২৬ নং অনুচ্ছেদে আছে, ধর্মীয় বিষয়ে নিজেদের নিজস্ব বিষয়গুলো পরিচালনা করা জন্যে সমাজের প্রত্যেক বিভাগের অধিকার রয়েছে। যে কোন ধর্মের ধর্মীয় বিষয়ের উপর ওই ধর্মের বিজ্ঞজনদের সাথে আলোচনা না করে কোন বিষয়ের ফায়সালা দেয়া যাবে না। সুতরাং উত্তরাখণ্ডের এই রায় সুপ্রিমকোর্টে নির্ধারিত আইনের বিপরিত হয়েছে।
হাইকোর্টের এই রায় সুপ্রিমকার্টের আইনের বিপরিত হওয়ার পাশাপাশি ভারতে সংবিধানের ১৪১ নং বিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে হলেও মন্তব্য করেন জমিয়তে উলামার জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদ মাদানী।
সাইয্যিদ মাহমুদ মাদানী জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টে জমিয়তে উলামা হিন্দের আইনজীবি হয়ে কাজ করবেন, সৈয়দ শাকিল আহমদ, নিয়াজ আহমদ ফারুকী, জামিল হুসাইন, মোহাম্মদ পারভেজ।
মাওলানা মাহমুদ মাদানী গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলেন, গ্রামের মুরব্বীদের ফায়সালা কে ‘ফাতওয়া’ হিসেবে বিবেচনা করে হাইকোর্ট থেকে ফাতওয়া নিষিদ্ধ রায় দেয়া হয়েছে। অথচ গ্রামের মুরব্বীদের ফায়সালা কখনো ফাতওয়া হয় না। হাইকোর্টের মাননীয় বিচারকদের অবশ্যই জানা উচিত, ফাতওয়া দেয়ার জন্যে সুপ্রতিষ্ঠিত মুফতি হতে হয়। গ্রামের মুরব্বীদের ফায়সালা কে ফাতওয়া মনে করা নিতান্তই বোকামি বলেন তিনি।
মাওলানা মাদানী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইন ও ভারতীয় সংবিধান দ্বারা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখা করা দেয়া হয়েছে, হাইকোর্ট থেকে ফাতওয়া নিষিদ্ধ করাটা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। তাই সুপ্রিমকোর্ট থেকে এব্যাপারে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার আহ্বান জানান মাওলানা মাহমুদ মাদানী।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সূত্র : ডেইলি হামারা সমাজ, ডেইলি কারওয়ান, ভারত।
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


