‘হাইয়াতুল উলয়াকে রাজনীতির সঙ্গে একাত্ম করা কখনোই ঠিক না’

‘হাইয়াতুল উলয়াকে রাজনীতির সঙ্গে একাত্ম করা কখনোই ঠিক না’

মাসউদুল কাদির : রাজনীতি করা একজন মানুষের নাগরিক অধিকার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যা নামক বিশেষ বোর্ডে কেন রাজনীতিক ব্যক্তিবর্গ সংশ্লিষ্ট থাকবেন- এ নিয়ে চলছে ট্রল। কেউ কেউ লিখছেন, ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যা নামক বিশেষ বোর্ড থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সরিয়ে দেয়া হোক।’ এ বিষয়টা কি আসলে জরুরি যে রাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত তারা থাকলে সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমের মুখোমুখি হয়েছেন দেশের শীর্ষ আলেমগণ। নিচে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করা হলো-

আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যার কো-চেয়ারম্যান ও জামিআ শারইয়্যাহ মালিবাগের প্রিন্সিপাল শাইখুল হাদিস মাওলানা আশরাফ আলী পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের থাকাতে কোনও সমস্যা নেই।
পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো সরকার এলে জামাতে ইসলামীসহ বিরোধীদের কেউ আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যায় ঢুকে যেতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছে জানতে চাইলে তিনি পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমাদের কওমী মাদরাসায় এবং শিক্ষাব্যবস্থায় কখনোই জামায়াত ঢুকতে পারবে না।

আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যায় রাজনীতিকগণ থাকতে পারবে কিনা বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া বাংলাদেশ তথা জাতীয় দ্বীনী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের মহাসচিব ও জামিআ এদারাতুল উলূম আফতাবনগরের মুহতামিম মুফতি মোহাম্মদ আলী পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ বিষয়ে যখন প্রথম আইনি খসড়া করা হয় তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আলোচনা করা হয়েছিল। এবং এতে লেখা আছে আমাদের যে হাইয়াতুল উলইয়া রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবে। এটাকে রাজনীতির জন্য ব্যবহার করবে না বা এখানে রাজনীতির কথা বলবে না। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এখানে থাকতে পারবে কিন্তু হাইয়াতুল উলইয়াস রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবে এটাই লেখা আছে৷ আমি এটার সাথেই একমত।

যারা বলছে রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যায় থাকতে পারবে না এটা ঠিক নয় এমন প্রশ্নের জবাবে মুফতি মোহাম্মদ আলী বলেন, সেটা আলোচনা সাপেক্ষে হতে পারে৷ এ নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই বলছে রাজনীতি যারা করছেন শীর্ষ আলেমদের মধ্যে তাদের হাইয়াতুল উলইয়া বোর্ডে থাকা উচিৎ নয়। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য জানতে চাইলে খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমীন পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, অবশ্যই তাদের থাকা উচিত। রাজনীতি যারা করে তারা হাইয়াতুল উলইয়াতে থাকবে কিন্তু হাইয়াতুল উলইয়া থাকবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে। রাজনীতি এমন কোন জিনিস না যে এটার জন্য হাইয়াতুল উলইয়া থেকে বের হয়ে যেতে হবে।

যারা সক্রিয় রাজনীতি করছেন আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যায় ভবিষ্যতে তাদের কোন প্রভাব বিস্তারের কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে মুফতি রুহুল আমীন পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এটা তো ভবিষ্যতের কথা। আমি জানি না। ভবিষ্যতের কথা আল্লাহ ভালো জানেন।

আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যায় যে পরিমাণ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সংযুক্ত রয়েছেন তাতে ভবিষ্যত শিক্ষাবোর্ড পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে কিনা বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মজলিসে শূরা-আমেলার সদস্য ও রাজধানীর উত্তরার জামিয়াতুস সাহাবার প্রিন্সিপাল রুহুল আমীন খান উজানবীর কাছে জানতে চাইলে পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, এ কথাটা এভাবে বললে ভালো হবে যে রাজনৈতিক কোন অসভ্য দৃশ্যের প্রভাব এখানে ডিস্টার্ব করতে পারবে না। রাজনীতি করার অধিকার প্রত্যেকটা মানুষের আছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকতে পারবে না এটা অযৌক্তিক।

রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকলেও হাইয়াতুল উলইয়া রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবে কিনা জানতে চাইলে মুফতি রুহুল আমীন খান উজানবী বলেন, এটা ঠিক আছে। অবশ্যই ঠিক আছে। কথা সেটাই যাদের রাজনীতি করার তারা রাজনীতি করুক তবে বোর্ড যেন এর প্রভাবমুক্ত থাকে। হাইয়াতুল উলয়াকে রাজনীতির সঙ্গে এক করা কখনোই ঠিক না।

বাংলাদেশে অনেকগুলো ইসলামী দল আছে৷ এখন একজন ব্যক্তি কি একটি ইসলামী দলের প্রধান হয়েও হাইয়াতুল উলইয়ার প্রধান হতে পারবেন? জানতে চাইলে পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মুফতি রুহুল আমীন খান উজানবী না, এতে কোনও সমস্যা নেই। একজন দুই জায়গার প্রধান হওয়াতে কোনো সমস্যা নেই। তবে ওই কথার ভিত্তিতেই যে হাইয়াতুল উলইয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হবে।

যারা ঘোমটা দিয়ে ঘরে বসে থাকে তারা তো কোথাও কাজে নেই। তারা হাইয়া কেন কোথাও কোনো কিছু পরিচালনা করতে পারবে না। যারা ময়দানে আছে তারাই আরও অনেক কাজ করতে পারবে। বহুমুখী কাজের ফিরিস্তি টেনে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে স্মরণ করে উজানবী বলেন, আল্লামা মাসঊদ সমাজে দুএকজন হন। এধরনের কাজের মানুষকে একজায়গায় স্থির রাখা উচিত নয়।

গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *