পাথেয় রিপোর্ট : হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দারুল উলুম দেওবন্দের মুহাদ্দিস, জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের প্রেসিডেন্ট, রাবেতায়ে আলম আল ইসলামির অন্যতম সদস্য আল্লামা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানি। মাওলানা আরশাদ মাদানীর নাতি মাওলানা খাব্বাবের এক অডিও বার্তায় হযরতের অসুস্থতার খবর জানা যায়।
মঙ্গবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) লিভার জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানিকে দিল্লির মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে।
সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানি (জন্ম ১৯৪১) জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের প্রেসিডেন্ট। পিতার নাম শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ হুসাইন আহমাদ মাদানি। ২০০৬ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানি তার বড় ভাই মাওলানা সাইয়্যিদ আস্আদ মাদানির পর জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এদিকে আল্লামা আরশাদ মাদানির অসুস্থতায় সারা দেশে সকলের কাছে দোয়র আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
মাত্র ৮ বছর বয়সে মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানি গোটা কুরআন মুখস্ত করেন। তারপর দারুল উলুম দেওবন্দের নিয়ম অনুযায়ী তিনি পাঁচ বছর ফার্সি ভাষার ওপর পড়াশোনা করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি আরবি পড়া শুরু করেন এবং ১৯৫৯ সালে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন। ১৯৬৩ সালে তিনি দাওরায়ে হাদিস শেষ করেন।
আল্লামা আরশাদ মাদানি কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৬৫ সালে বিহার প্রদেশের প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া কাসিমিয়া গয়ায় শিক্ষক হিসাবে যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৬৯ সালে দারুল উলূম দেওবন্দের শাইখুল হাদিস এবং তৎকালীন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি সায়্যিদ ফখরুদ্দীনের হুকুমে জামিয়া কাসিমিয়া মাদরাসা শাহী মুরাদাবাদে মুদাররিস পদে যোগদান করেন।
১৯৭১ সালে মাওলানা ফখরুদ্দীন তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পরিচালনার দক্ষতা দেখে শিক্ষা কমিটির কনভেনার এবং ১৯৭২ সালে সহকারী শিক্ষা সচিব হিসাবে নিয়োগ দেন। তখন মাওলানা ফখরুদ্দীন নিজেই শিক্ষা সচিব ছিলেন। ১৯৮২ সালে দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শুরার আহবানে তিনি মুহাদ্দিস পদে যোগদান করেন।
১৯৯৬-২০০৮ সাল পর্যন্ত দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষা সচিব ছিলেন। তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে হিফয বিভাগ, ক্বিরায়াত বিভাগও প্রথমিক আরবী বিভাগসমূহ অতুলনীয়ভাবে সফলতা লাভ করে। বর্তমানে তিরমিযি শরিফ অধ্যাপনায় নিয়োজিত আছেন। ২০১২ সালে রাবেতায়ে আলম আল ইসলামি এর সদস্য পদ লাভ করেন।
শিক্ষা জীবন শেষ করার পরপরই তিনি আধ্যাত্মিক সাধনা শুরু করেন। তার বড় ভাই সাইয়্যিদ আসআদ মাদানি এর নিকট বাইআত (অঙ্গীকারবদ্ধ) হয়ে তার প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হতে শুরু করেন।
যেহেতু তার পিতা সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানির কাছ থেকে শৈশবে আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ করেছেন, তাই অতি অল্প সময়ে তিনি স্বীয় লক্ষ্য অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘ ১৪ মাস সৌদি আরবের মদীনায় অবস্থান করে ইসলামী জ্ঞান লাভ করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তার মুরিদ তথা আধ্যাত্মিক শিষ্য রয়েছে।


