সদরুল হাসান নাঈম : আল্লামা হোসাইন আহমদ বারকোটি রহ. ছিলেন নিজের যুগ ও সময়কে ছাড়িয়ে যাওয়া একজন সফল মানুষ। সফল ব্যক্তিত্ব। মানুষ গড়ার কারিগর। দেশ-জাতি, ইসলাম ও মুসলমানদের জন্যে নিবেদিত প্রাণ। ইলমী বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ছিল অন্য পাঁচ জনের চেয়ে একটু আলাদা। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন আপোসহীন একজন সংগ্রামী নেতা।
শায়খুল হাদীস হোসাইন আহমদ বারকোটি রহ. ১৯২৪ সালে সিলেট জেলার, ঢাকাদক্ষিণ উপজেলার বারকোট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা নাম আব্দুল গফুর ও মাতা ফয়জুন নেছা। মাতা-পিতার আদর, ভালোবাসা ও স্নেহের ছায়ায় তিনি বেড়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন পরিবারের সবার আদরের ধন। ছাত্রজীবন তিনি ছিলেন শিক্ষকদের চোখের মণি, মুখের বাচন।
মাতা-পিতার আদর, ভালোবাসা ও স্নেহের ছায়ায় তিনি বেড়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন পরিবারের সবার আদরের ধন। ছাত্রজীবন তিনি ছিলেন শিক্ষকদের চোখের মণি, মুখের বাচন।
মাওলানা হোসাইন আহমদ বারকোটি রহ. পড়ালেখা শেষে করে রাণাপিং মাদ্রাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিয়ানীবাজার উপজেলার দেউলগ্রাম মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর মাদ্রাসা, সিলেট শহরের দরগাহ মাদ্রাসা, নিজ গ্রামের বারকোট মাদ্রাসায় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি বারকোট মাদ্রাসার মুহতামিমের দায়িত্ব ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার দেউলগ্রাম মাদ্রাসার মুহতামিম ও ঢাকাদক্ষিণ দারুল উলুম হুসাইনিয়া মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন। শায়খুল হাদীস হোসাইন আহমদ বারকোটী দেউলগ্রাম মাদ্রাসা, ঢাকাদক্ষিণ মাদ্রাসা, সৈয়দপুর মাদ্রাসা, রামধা মাদ্রাসা ও মেওয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস হিসেবে তালিবুল ইলমদেরকে তিনি হাদীস শরীফের শিক্ষাদান করেন। ইলমে হাদীসের দরসে তিনি ছিলেন সমুজ্জ্বল।
শিক্ষকতার পাশাপাশি মাওলানা হোসাইন আহমদ বারকোটি রহ. রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি দেশ স্বাধীনের পূর্ব থেকেই জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে মাওলানা বশির আহমদ শায়খে বাঘা রহ. এর মৃত্যুর পর থেকে অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত গোলাপগঞ্জ উপজেলা জমিয়তের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় জমিয়তের সহ-সভাপতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন সিলেট জেলা জমিয়তের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজনীতি করতেন মানুষের জন্যে, দেশের জন্যে, ইসলামের জন্যে। দুনিয়াবী কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে নয়।
বাংলাদেশে আল্লামা বারকোটি একজন ইসলামের দায়ী ছিলেন। সকল শ্রেণির মানুষ তাঁর থেকে উপকৃত হচ্ছিল। কিন্তু এই স্রষ্টার সৃষ্টি এই সুন্দর পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয়। সবাইকে একদিন আখেরাতের দিকে পা বাড়াতে হয়। প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত শায়খুল হাদিস এবং আজাদ দ্বীনি এদারায়ে তালিম বাংলাদেশের বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক সহ-সভাপতি আল্লামা হোসাইন আহমদ বারকোটি ১১ আগস্ট ২০১৮ শনিবার নিজ গ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর জানাযার নামাজ ১২ আগস্ট রোববার বাদ আছর বারকোট হুসাইনিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজের ইমামতি করেন আজাদ উদ্দিন নোমান। জানাজা শেষে মরহুমকে পারিবারিক কবরে দাফন করা হয়।
মৃত্যুর সময় আল্লামা বারকোটি ৫ ছেলে, ২ মেয়ে ও তাঁর সহধর্মীনিকে রেখে যান।
লেখক : তরুণ আলেম, সিলেট এমসি কলেজে অনার্স অধ্যয়নরত
তথ্যসংযোগ : আদিল মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


