১৪ অপরাধে জড়িত রোহিঙ্গারা

১৪ অপরাধে জড়িত রোহিঙ্গারা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : খুনোখুনি, অপহরণ, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মানবপাচারসহ ১৪ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে বসবাসরত রোহিঙ্গা অপরাধীরা। এসব অপরাধ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ বছরে শিবিরগুলোতে ৯৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

এছাড়াও সর্বশেষ গত দুই-আড়াই মাসে মিয়ানমারভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) দুই নেতাসহ অন্তত পাঁচজন খুন হয়েছেন। এদের মধ্যে মঙ্গলবার ( ১ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়ার মধুরছড়া রোহিঙ্গা শিবিরে নুরুল আমিন (২৬) নামের এক রোহিঙ্গা যুবক খুন হয়। জানা গেছে, ক্যাম্প-০৪ এক্সটেনশনের আই ব্লকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। মৃত নুরুল আমিন ওই ক্যাম্পের আবু শামার ছেলে।

নিহত আমিন রোহিঙ্গা হলেও জিকে নামের একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। অফিস শেষে ঘরে ফেরার পথে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি সৈয়দ হারুন-অর-রশিদ।

এছাড়াও ২২ জুন মিয়ানমারভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) নেতা মোহাম্মদ শাহ এবং এর আগে ১৫ জুন একই গ্রুপের সদস্য মো. সেলিম (৩০) সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। একই মাসে ১০ জুন কুতুপালংয়ের চার নম্বর ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবক মোহাম্মদ সমিন (৩০) এবং ৯ জুন রোহিঙ্গা নেতা আজিম উদ্দিনকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

মে মাসে খুন হন রোহিঙ্গা নেতা সানা উল্লাহ (৪০) ও সোনা আলী (৪৬) নামের দুই স্বেচ্ছাসেবক। নিহতদের মধ্যে দুইজন আরসা নেতা মিয়ানমারভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্য মো. সেলিম (৩০)। তারা নিহত হন ১৫ জুন। এর এক সপ্তাহের ব্যবধানে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে একই গ্রুপের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসিমের সহযোগী মো. শাহকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে আরসা সদস্যরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানান, রোহিঙ্গা শিবিরে আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. নাইমুল হক।

তিনি জানান, ২২ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ১৭ নম্বর ক্যাম্পের সাব ব্লক ৯৪ এর একটি দোকানের সামনে মোহাম্মদ শাহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তার সঙ্গে থাকা লোকজন গলায় গুলি করে পালিয়ে যায়। মোহাম্মদ শাহ তথাকথিত আরসা সেকেন্ড-ইন-কমান্ড শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসিমের সহযোগী ছিল। হাসিম অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়। এরপর মো. শাহ মিয়ানমারে পালিয়ে যায়। হাসিমের মৃত্যুর পেছনে তার হাত থাকতে পারে বলে আরসার সদস্যরা শুরু থেকে সন্দেহ পোষণ করে আসছিল। এর জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে যোগ করেন মো. নাইমুল হক।

নিহত মোহাম্মদ শাহ রোহিঙ্গা শিবিরের একজন চিহ্নিত দুষ্কৃতিকারী এবং গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা দুষ্কৃতিকারী তালিকায় তার নাম শীর্ষে রয়েছে জানিয়ে নাইমুল হক বলেন, দীর্ঘদিন মিয়ানমার এবং জিরো পয়েন্ট এলাকায় লুকিয়ে থাকার পর কিছুদিন আগে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরে আসে এবং তখন থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে আসছিল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *