৩০-৪০ শতাংশ প্রবাসীর সৌদি ফিরে যাওয়া অসম্ভব : বায়রা

৩০-৪০ শতাংশ প্রবাসীর সৌদি ফিরে যাওয়া অসম্ভব : বায়রা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে এসে আটকেপড়া ৩০-৪০ ভাগের বেশি কর্মীকে সৌদি আরবে আবার পাঠানো অসম্ভব বলে মনে করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে লিখিত বক্তব্যে বায়রা জানায়, ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের সার্কুলার অনুযায়ী একজন কর্মীকে সব কার্যক্রম পুনরায় সম্পন্ন করে পাঠানো ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এ প্রক্রিয়ায় ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কর্মীর ক্ষেত্রে তাদের কর্মস্থলে যোগদান করা প্রায় অসম্ভব। এ প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

বায়রার সভাপতি বেনজির আহমেদ ও মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে যে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে তা কাটিয়ে উঠে শ্রমবাজারকে ফের চালু করা বিশাল চ্যালেঞ্জের বিষয় হবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি প্ল্যাটফরমে কাজ করা অতি জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কো-অর্ডিনেশন সেল গঠনের প্রস্তাব করে বায়রার পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বায়রার প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করে এ সেল গঠন করা যেতে পারে। এই সেলে পূর্ববর্তী দক্ষতাসম্পন্ন বা সৌদি সরকারের উচ্চপর্যায়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে তা পরিচালনার জন্য একজন চিফ কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা যেতে পারে।

কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় বায়রার সুপারিশে আরও বলা হয়, যেসব কর্মী ছুটিসহ বিভিন্ন কারণে দেশে আসার পর করোনার কারণে কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারেননি বা বর্তমানে যাদের ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়নি, যারা যাওয়ার চেষ্টা করছেন জরুরি ভিত্তিতে, তাদের একটি ডাটাবেজ করা প্রয়োজন। রিক্রুটিং এজেন্সির হাতে প্রক্রিয়াধীন প্রায় ৮৬ হাজার কর্মীর চাহিদা রয়েছে তাদের কোভিড মহামারীর কারণে প্রেরণ করা সম্ভব হয়নি, ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। নতুন প্রক্রিয়ায় ভিসা সংগ্রহ করা দুঃসাধ্য। ঢাকায় সৌদি দূতাবাস, গামকা এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অতিদ্রুত যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে এর সুরাহা করা প্রয়োজন।

প্রতারণা বা চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তদন্তের আগে রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যক্রম বন্ধ না করার দাবি জানিয়ে বায়রার পক্ষ থেকে বলা হয়, সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুরুষ ও নারীকর্মী পাঠানোর পরও কখনো কখনো কর্মীর নিয়োগকর্তা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে থাকে। আবার অনেক কর্মী বিদেশে গিয়ে হোমসিকসহ নানা কারণে দেশে ফিরে আসে। দেশে ফিরে এসেই তারা সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্টের নামে বিএমইটি বা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেয়। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয় বা বিএমইটি সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির সব কার্যকলাপ বন্ধ করে দেয়। একটি রিক্রুটিং এজেন্সির নামে অভিযোগ থাকতে পারে। অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত রিক্রুটিং এজেন্সির স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করছি। কারণ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়। সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কার্যক্রম বন্ধের কারণে প্রক্রিয়াধীন বিদেশগামী কর্মীদের বিড়ম্বনা ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

বায়রার পক্ষ থেকে ২০১২ সালে প্রণীত মানবপাচার আইন বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য হয়রানিমূলক উল্লেখ করে তাদের ক্ষেত্রে ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা অভিবাসন আইন দাবি করা হয়।

এদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত দুই বছরে ৩৬৭টি রিক্রুটিং এজেন্টের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে ১৬৩ এবং ২০২০ সালে ২০৪টি লাইসেন্স স্থগিত করা হয়।

বৈঠকে সুশৃঙ্খল, নিরাপদ, নিয়মিত ও দায়িত্বপূর্ণ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বিদেশগামী কর্মী সংগ্রহের জন্য বায়রা কর্তৃক নিয়োগকৃত/দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্ট/সাব-এজেন্টদের রেজিস্ট্রিকরণের বিষয়ে বায়রা প্রতিনিধিবর্গের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। নিবন্ধিত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বাইরে কেউ বিদেশগামী কর্মীদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেনে সম্পৃক্ত থাকলে বা বিদেশগামীদের হয়রানি করলে অনিবন্ধিত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত বৈঠকে গৃহীত হয়।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, শুধু বৈধ ও নিবন্ধিত, অভিবাসী মৃত কর্মীর পরিবারকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নিয়ম থাকলেও বর্তমানে কোভিড মহামারী বিবেচনায় অবৈধ/অনিবন্ধিত মৃত অভিবাসীর পরিবারকেও এ সহায়তা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশগামীদের সহায়তার লক্ষ্যে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি, বিমানের ফ্লাইট বৃদ্ধি, আর্থিক সহায়তা দানসহ নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। কর্মীদের বিদেশ গমন আরও সহজ করার লক্ষ্যে আগামী বৈঠকে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়।

কমিটির সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, অধ্যাপক আলী আশরাফ এবং সাদেক খান বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন সংস্থা প্রধানসহ মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *