পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে আগামী চারদিনের ভেতর রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে নাম চেয়েছে নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে গঠিত সার্চ কমিটি।
রোববার (৬ ফেব্রুয়ারী) বিকাল সাড়ে চারটায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রথম বৈঠকে বসে নবনির্মিত এই সার্চ কমিটি। প্রায় তিন ঘন্টা ব্যাপী চলা বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সামনে বিবৃতি দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল কবির।
সেসময় তিনি জানান, বিশিষ্টজনদের সঙ্গে আগামী শনিবার (২টি) ও রোববার (১টি) মোট ৩টি বৈঠক করবে সার্চ কমিটি। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মতামত ও নাম চেয়ে আজই ই-মেইল করা হবে। তাদের সঙ্গে সামনাসামনি কোনো বৈঠক হবে না।
এরপর রোববার রাতেই একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব শফিউল আজিমের স্বাক্ষরিত ঐ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে অনধিক দশ ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করতে পারবে নিবন্ধিত প্রত্যেক রাজনৈতিক দল। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টার মধ্যে সেই তালিকা সরাসরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া বা ইমেইলে (gfp_sec@cabinet.gov.bd) পাঠানো যাবে।
রাজনৈতিক দল ব্যতীত ব্যক্তিগত পর্যায়েও কেউ চাইলে নাম প্রস্তাব করতে পারবে বলেও জানানো হয় ঐ বিজ্ঞপ্তিতে।
এর আগে বিকেলে সার্চ কমিটির সভাপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির অন্য পাঁচ সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) মুসলিম চৌধুরী, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন, কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক।
তাদের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন সার্চ কমিটির যাবতীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদানের দায়িত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল কবির।
বৈঠক শেষে আনোয়ারুল কবির সাংবাদিকদের জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম চাইবে সার্চ কমিটি, ব্যক্তিগতভাবেও যে কেউ জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী মঙ্গলবার সার্চ কমিটি নিজেরা আবারও বৈঠকে বসবে এবং আগামী শনিবার ও রোববার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হবে।
আনোয়ারুল কবির আরও জানান, সবার সঙ্গে আলোচনা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইন অনুযায়ী যোগ্য বিবেচিতদের মধ্য থেকে ১০ জনের নাম প্রস্তাব করা হবে রাষ্ট্রপতির কাছে। তাদের মধ্যে থেকে ৫ জনকে বাছাই করে রাষ্ট্রপতি গঠন করবেন ত্রয়োদশ নির্বাচন কমিশন।


