৭ দফা দাবি ঘোষণা করলো জাতীয় ঐক্যে

৭ দফা দাবি ঘোষণা করলো জাতীয় ঐক্যে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ‘যুক্তফ্রন্ট’ সাত দফা দাবি ও নয় দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।

১৩ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা করেন যুক্তফ্রন্ট নেতা এবং নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

এ সময় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সব স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি ও নাগরিক সমাজসহ জনগণকে সুসংগঠিত করে আমরা অভিন্ন দাবি আদায় এবং লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস গণআন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা প্রদান করছি। দুই জোটের ঘোষণাকে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে জানিয়ে মান্না বলেন, একটা অংশ হলো নির্বাচনের আগে আমাদের দাবি সমূহ। অপর অংশে নয়টি লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের পরে বাস্তবায়ন করা হবে।

মান্না বলেন, ‘প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সব স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি ও নাগরিক সমাজসহ জনগণকে সুসংগঠিত করে যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য নিম্নবর্ণিত অভিন্ন দাবি আদায় এবং লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস গণআন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গড়ার কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুকসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তবে, অসুস্থতার কারণে উপস্থিত ছিলেন না যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে থাকা বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয় কয়েকটি দলের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম-যুক্তফ্রন্টের পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত ঘোষণাপত্র।

অনুষ্ঠানে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘যখনই নির্বাচন দেওয়া হয়, আমাদের সকলকে এ আন্দোলনে নামতে হয়। যে নির্বাচন একটা নামকাওয়াস্তে না, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা নির্বাচন যদি ভেজাল হয়, তো জনগণ তাদের মালিকানা থেকে বঞ্চিত হয়। আপনাদেরকে মালিক হিসেবে দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হলে, নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হতে হবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবিগুলো হলো :

১. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না।

২. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।

৩. কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রছাত্রীসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা যাবে না।
৪. নির্বাচনের এক মাস আগে থেকে নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে।

৫. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা ও পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর যুগোপযোগী সংশোধন করতে হবে।

৬. সকল নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চয়তা বিধান করা, কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র জনগণের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নের সুনিশ্চিত করা। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।

৭. জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দলীয়করণের কালো থাবা থেকে মুক্তকরণের লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করা। রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনগণের আর্থিক সচ্ছলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সুশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।

অভিন্ন দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে জোটবদ্ধ নির্বাচন ও সৎ, যোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও শাসনকার্য পরিচালনা স্পষ্ট অঙ্গীকারসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত লক্ষ্য ও কর্মসূচি প্রণয়ন করে জনসম্মুখে প্রকাশ, প্রচার ও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে বলে জানান মান্না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *