উগ্রপন্থা রুখতে আল্লামা মাসঊদের ফাতওয়া

উগ্রপন্থা রুখতে আল্লামা মাসঊদের ফাতওয়া

এক লাখ আলেম, মুফতি ও ইমামের স্বাক্ষর সম্বলিত যে ফাতওয়া প্রদান করা হয়েছে দেশের বর্ষীয়ান আলেম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাত বারাকাতুহুমের নেতৃত্বে তা দেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। এই ফাতওয়া প্রচার করলে জঙ্গিবাদ কমবে। হ্রাস পাবে। বখে যাওয়া তারুণ্য নিজেকে চিনতে পারবে। ইসলামের আহ্বান কী? সেটাও ধারণালাভ করতে পারবে। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের মতো শিক্ষককে অন্তত প্রাণে মারতে চাইবে না কেউÑ এই ফাতওয়া ঠিক মতো অধ্যয়ন করলে। সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি অনুরোধ করবো, ফাতওয়া দিয়েই আসলে বসে থাকলে চলবে না। এই ফাতওয়ার প্রচার বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের আলেমদের পক্ষ থেকে ফাতওয়া আসার পর ইসলামের নামাঙ্কিত সেই পাকিস্তানের আলেমগণও ফাতওয়া দিয়েছে। তবে আলেমদের সংখ্যা হিসেবে এটাই একটা ইতিহাস।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল তার চিন্তা, মতামত, আদর্শিক অবস্থানের কারণে আক্রান্ত কিনা আমি জানি না। এখানে জামাতেরও হাত থাকতে পারে। ড. জাফর ইকবাল বহুদিন একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রপাগান্ডা, অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন এবং তার ওপর হামলার একাধিক চেষ্টাও হয়েছে। বর্তমান হামলাটির পেছনেও সেই গোষ্ঠীর মদদ বা হাত রয়েছে বলে সন্দেহ সবাই করছে। দেশে বুদ্ধিজীবী-লেখকরা যেসব হামলার শিকার হয়েছেন, মোটাদাগে তার একটা প্যাটার্ন আছে। উগ্রবাদী গোষ্ঠীর আক্রোশের শিকার লিবারেল ঘরানার অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার ব্যক্তিরাই এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলার বড় শিকার। আমাদের জানা নেই রক্ষণশীল কোনো লেখক-বুদ্ধিজীবী গত কয়েক দশকে গুপ্ত হামলার শিকার হয়েছেন কি-না। নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান, লেখালেখির কারণে যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে গুপ্ত হামলার শিকার হন, সে ক্ষেত্রে স্পষ্ট যে আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মকা-ে উগ্রপন্থার অবস্থান মূল্যায়ন ও তা মোকাবেলায় পরিশীলিত চিন্তার ঘাটতি উল্লেখযোগ্য।

যারা রক্ষণশীলতার রাজনীতি করেন, তাদেরও আত্মপর্যালোচনার সময় এসেছে- তাদের রাজনীতির পরতে পরতে যে উগ্রতা ও সাম্প্রদায়িকতা রয়েছে এবং এর গর্ভে যে অসহিষ্ণুতার জন্ম হয় তার পরিণতিতেই কি অনেক গুপ্তঘাতক তৈরি হয়, যাদের কাছে হুমায়ুন আজাদ কিংবা জাফর ইকবালের মতো লেখকদের জীবন বিপন্ন? বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের গভীরতা বুঝতে হলে এই উগ্রপন্থার রাজনীতি ও তার ঝুঁকিও বুঝতে হবে। আমাদের ধর্মীয় ও ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো মডারেশন, আত্মপর্যালোচনা হয়েছে এরূপ নজির দেখা যায় না। রাজনীতি যখন ধর্ম, উগ্র জাতীয়তাবাদ- এসবের পঙ্কিল আবর্তে পড়ে তখন মুক্ত স্পেস কমে যায় এবং লেখক-শিল্পী-সাহিত্যিকরাই এর বেশি শিকার হন। অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, বর্তমান সার্বিক রাজনৈতিক সংকটের পেছনে উগ্রবাদী, চরমপন্থী রাজনীতি ও তাদের সহিংস কর্মকা- দায়ী।
এখানে মুক্তচিন্তার মানুষদের কথা উল্লেখ করার মানে এই না যে, তারা ইসলামের পতাকাবাহী। তবে একথা সত্য যে, তারা দেশের গুণী মানুষ। বিচারবহির্ভূতভাবে এসব হত্যাচেষ্টা কারা চালায়, কোন দলের চিন্তা এগুলো খুঁজে বের করতে হবে। আদৌ কি ইসলাম এটাকে সমর্থন করে। যুক্তিতর্কের দুনিয়া মারা যায়নি তো? তাহলে কেন এসব গুপ্তহত্যার কাজে তরুণরা ব্যবহৃত হবে। আল্লাহ আমাদের সুন্দর জীবন গঠনের তাওফিক দিন। আমীন।
মুহাম্মদ রফিকুল্লাহ সাদী, বামিশাবাজার, কুমিল্লা।
মাসিক পাথেয়, চিঠিপত্র, মার্চ ২০১৮

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *