আল্লাহকে পেলে যে খুশি মিলে, তা আর কোথাও মিলে না : মাওলানা মাহমুদ মাদানী

আল্লাহকে পেলে যে খুশি মিলে, তা আর কোথাও মিলে না : মাওলানা মাহমুদ মাদানী

  • আল্লাহকে পেলে যে খুশি মিলে, তা আর কোথাও মিলে না : মাওলানা মাহমুদ মাদানী
  • আমি, আমার ও আমিত্বকে বিসর্জন দিতে হবে : আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আল্লাহ তাআলাকে পেলে যে খুশি মিলে, তা আর কোথাও মিলে না—মিলা সম্ভবও না বলে জানিয়েছেন জানেশীনে ফিদায়ে মিল্লাত, বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আধ্যাত্মিক রাহবার, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি, আওলাদে রাসূল মাওলানা সায়্যিদ মাহমুদ আসআদ মাদানী।

তিনি বলেন, দুনিয়ায় মানুষ কত কিছু অর্জন করে। কেউ ডাক্তার—কেউ ইঞ্জিনিয়ার হয়, কেউ দুনিয়াতে প্রচুর অর্থকড়ির মালিক হয়। কিন্তু আল্লাহর মুহাব্বাতের সামনে এসব কিছুর কোনো মূল্য নেই। আল্লাহর মুহাব্বাত-ভালোবাসা পেলে—অন্তরে যে খুশি মিলে, তা দুনিয়ার আর কিছুতেই পাওয়া যায় না।

রোববার (২০ নভেম্বর) বাদ মাগরিব রাজধানীর জামিআ ইকরা বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ইসলাহী ইজতেমায় দ্বিতীয় দিন মাওলানা মাহমুদ মাদানী এসব কথা বলেন।

অন্তরে বিনয়ের গুণকে ধারণ করার কথা বলে আওলাদে রাসূল বলেন, আলেমের অন্তরে হিংসার বীজ বুনে শয়তান সবচে বেশি খুশি হয়। আলেমদের জন্য তো অবশ্যই, সালেকীন ও সাধারণ মানুষের জন্যও হিংসার দোষ থেকে মুক্তি লাভ করতে হবে। আর হিংসা থেকে মুক্তি লাভ করতে বিনয়ের অভ্যাস লালন করতে হবে। কারণ বিনয়ী হওয়ার মাধ্যমে হিংসা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, আল্লাহ তাআলার জিকির করলে সব কাজ সহজ হয়ে যায়। আপনি যদি দিনে দুই তিন ঘন্টা আল্লাহর জিকির করেন, তারপর কাজ শুরু করেন, তাহলে আমি দৃঢ়ভাবে বলছি আপনি কাজে ছয়-সাত ঘন্টার বরকত অনুভব করবেন। যত বেশি জিকিরে সময় অতিবাহিত করবেন, তত বেশি সময়ের বরকত হবে। কারণ জিকিরে কখনই সময় নষ্ট হয় না।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই আছেন কিছুদিন জিকির করে জিকির করা বন্ধ করে দেন। তারা মনে করেন অনেক উন্নতি হয়ে গেছে, আর জিকিরের প্রয়োজন নেই। এটি একটি ভুল ধারণা। আমি মনে করি, কখনই জিকির বন্ধ করা উচিত নয়। আপনি তাসাউফের রাস্তায় যত উপরে যাবেন, তত বেশি জিকির করবেন।

রাসূলের আমলী যিন্দেগীর সুন্নাত অনুসরণের সাথে তাঁর সামাজিক যিন্দেগীর সুন্নাতগুলো পালন করার আহ্বান করে মাওলানা মাদানী বলেন, আমরা শুধু রাসূলের আমলী যিন্দেগীর সুন্নাত পালন করাকেই যথেষ্ট মনে করি। রাসূলের সামাজিক জীবনের সুন্নাতকে পালন করতে অবেহলা করি। আসলে বিষয়টি ঠিক না। আমলী যিন্দেগীর সুন্নাতের সাথে সামাজিক জীবনের সুন্নাতগুলোকেও সমানভাবে পালন করতে হবে। বন্ধুর সাথে রাসূলের তরীকা অনুযায়ী বন্ধুত্ব করতে হবে, পরিবারের রাসূল কীভাবে খেয়াল রেখেছেন—তা আমাদের জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। শত্রুর সাথে রাসূল কী উত্তম ব্যবহার করেছেন তার অনুসরণ করতে হবে। এভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূলকে অনুসরণ করলে আশা করা যায় আমরা আল্লাহকে পাবো।

আওলাদে রাসূল বলেন, আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার জন্য করা—কোনো কাজই ছোট নয়। একজন আলেম যিনি বুখারী শরীফ পড়াচ্ছেন, আরেকজন আলেম যিনি অঁজপাড়া গাঁয়ে মক্তবে শিশুদের কুরআন পড়াচ্ছেন, কেউ ছোট কাজ করছে না। আল্লাহর রাস্তায় সব কাজই সমান। এখানে কোনো ছোট বড়র ভেদাভেদ হতে পারে না। যারা মক্তবে বাচ্চাদের কুরআন পড়াচ্ছেন তাদের জন্যই ইসলামের শেকড় এত মজবুত আছে।

ইজতেমায় আগত মুসল্লিদেরকে আমি, আমার ও আমিত্বের বিসর্জন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা আসআদ মাদানী (রহ.) এর সুযোগ্য খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, আমি, আমার ও আমিত্ব কে বিসর্জন দিতে হবে। মানুষের আমি ও আমিত্বের দ্বারা অহংকার ও গর্ব প্রকাশ পায়, তাই আমি ও আমিত্ব শূন্য করে ফেলতে হবে। কারণ মানুষের কিছুই নেই, মানুষ কিছুই করতে পারে না আল্লাহ ছাড়া। তাই আমি ও আমিত্বের অহংকার করা বেকুবি ছাড়া আর কিছুই নয়।

আল্লাহর জিকিরে হৃদয় পরিস্কার হয় উল্লেখ করে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, আমাদের হৃদয় পাপের আধিক্যে কালচে হয়ে আছে। তাই বাহ্যিক অঙ্গ পরিস্কার করার পাশাপাশি হৃদয় পরিস্কার করা প্রয়োজন। আর হৃদয় পরিস্কার হয় আল্লাহর নামের জিকিরে। তিনি নিজে পাক পবিত্র, নিয়মিত তাঁর নামের জিকির বান্দাকেও পাক পবিত্র বানিয়ে দেয়।

ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা আসআদ মাদানীর এই খলীফা বলেন, আল্লাহ তাআলাকে সবসময় অন্তরে রাখতে হবে, নবিজিকে আমলে রাখতে হবে এবং সাহাবায়ে কেরামের দেখানো পথে চলতে হবে। যদি আমরা সর্বদা আল্লাহকে অন্তরে, নবীজীকে আমলে এবং সাহাবায়ে কেরামের দেখানো পথে চলি, তাহলে দুনিয়াতে সফল হবো, আখেরাতেও কামিয়াব হবো।

বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা দুই দিনব্যাপী ইসলাহী ইজতেমার আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন জানেশীনে ফিদায়ে মিল্লাত, বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আধ্যাত্মিক রাহবার, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি, আওলাদে রাসূল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ আসআদ মাদানী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *