পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : (বঙ্গুর) হযরত হুসাইন রা.-এর শৈশবকালেই রাসূল সা. তার ব্যপারে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে, আমার এই নাতীকে শহীদ করে দেয়া হবে। যখন কূফাবাসী অগণিত চিঠি লিখে হযরত হুসাইনের কাছে আবদার রাখলো; ‘আমরা ইয়াযীদের বিরুদ্ধে আপনার বাইয়াত কামনা করছি’। তখন হযরত হুসাইন রা. কূফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। কিন্তু কূফাবাসী তাকে প্রচণ্ড রকমের ধোঁকা দিলো। তারা হযরত হুসাইনকে স্বপরিবারে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করলো। পরিতাপের বিষয়, আজ মুসলমানদের হুসাইন রা.-এর শহীদ হওয়ার ঘটনা জানা আছে। কিন্তু এর উদ্দেশ্য ও বার্তা সম্পর্কে জানা নেই কারোই। কারোই উপলব্ধি নেই এর পয়গাম।
২১ আগস্ট শুক্রবার কর্নাটকের ইলিয়াস নগর মসজিদে জুমার বয়ানে হাজারো মানুষের উদ্দেশ্য এ কথা বলেন খতীব আনযার শাহ কাসেমী।
মাওলানা আনযার শাহ কাসেমী বলেন, যদি হযরত চাইতেন তাহলে ইবনে যিয়াদের কথা মেনে স্বপরিবারে বেঁচে যেতে পারতেন। কিন্তু হযরত হুসাইন নিজের জীবন উৎসর্গে প্রস্তুত হয়ে বললেন, সত্যের জন্য মাথা দিতে প্রস্তত কিন্তু বাতিলের সামনে মাথা নোয়াতে রাজী নই। এরদ্বারা তিনি এই বার্তাই রেখে গেলেন যে, বাতিলের সঙ্গে কখনোই আপোস নয়।
মাওলানা কাসেমী বলেন, আজ আমাদের নিজেদেরই এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আমরা কি ইয়াযীদের মতাদর্শী নাকি হুসাইন রা.-এর। আমরা সত্যের সঙ্গে নাকি মিথ্যার! আজ আমাদের অবস্থা হলো ‘আমরা আমাদের জীবন থেকেই দ্বীন ও ঈমানকে মুছে দিয়েছি। আজ মুসলমানদের জীবনাচরণ দেখলে সন্দেহ জাগে সে কি বাস্তবিকই কোন মুসলিম নাকি কাফের।
তিনি বলেন, মুসলমানরা আজ পেয়ারে হাবীবের সুন্নত ছেড়ে ইয়াহুদি, খ্রিষ্টানদের কৃষ্টি কালচার নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করেছে।
এসময় তিনি নিজে প্রশ্ন রেখে বলেন, এসব কী বাতিলের সঙ্গে আতাত করে নয়? তাদের সমর্থন করা নয়? তাদের সঙ্গ দেয়া নয়? তাহলে ইয়াহুদি, খ্রীষ্টানরা কী মিথ্যার উপর নেই? আমাদের এসব জীবনাচরণে আমরা কী বাতিলের সামনে মাথা নত করিনি!
মাওলানা আনযার কাসেমী বলেন, হুসাইনের সত্য প্রেমিক তারাই যারা হুসাইনের অনুসৃত পথে চলে। সেই পদ্ধতি যা নবী কারীম সা. নিজে শিখিয়েছেন।
একটি মাসআলার সমাধানে উনি বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইয়াযীদের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করে বলেন, তার উপর না রহমত করা হোক না অভিসম্পাত। কিন্তু এরমধ্যে কোনও সন্দেহ নেই যে, ইয়াযীদ ফাসেক ও পাপাচারী ছিলেন। তার শাসনামলেই হযরত হুসাইনকে শহীদ করা হয়েছে, পক্ষান্তরে খুনীদের গ্রেফতার করাও হয়নি এবং কোনরকম সাজাও দেয়া হয়নি।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামাজ, দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


