পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : (দিল্লী) বাবরী মসজিদ ও কথিত রাম জন্মভূমি নিয়ে বহুল আলোচিত মামলাকে আদালতে আইনি বেঞ্চের কাছে সোপর্দ করা মুসলিম দলের আপিলের উপর ২৬ সেপ্টেম্বর গুরুত্বপূর্ণ ফায়সালা দেয়ার কথা ছিল আদালতের।
আদালত দেখবে, মুসলমানদের ইবাদতের জন্য স্থাপিত বাবরী মসজিদই আবশ্যক নাকি বাবরী মসজিদ এলাকার যেকোনো স্থানেই তারা নামাজ আদায় করতে পারবে। মূলত ১৯৯৪ সালে ইসমাইল ফারুকির দায়ের করা মামলাটিই এখানে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলমানদের ইবাদতের জন্য মসজিদ আবশ্যক নয়। বরং সে স্থানের যেকোনো জায়গাতেই নামাজ আদায় করা যাবে।
অবশ্য এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী জমিয়তে উলামা হিন্দের চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানি ও মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করে দাবি করা হয়েছে, আসলে বিষয়টি এমন নয় যে, মসজিদের প্রয়োজন নেই। এজন্য আদালতকে দ্বিতীয়বার চিন্তা করা উচিৎ।
এখন যদি মুসলিম দলের বিষয়টি স্পষ্টীকরণকে মেনে নেয়া হয়, তাহলে আইনি বেঞ্চের কাছেই মামলাটিকে সোপর্দ করা হবে। কেননা ইসমাইল ফারুকির এই মামলায় ফায়সালা দিয়েছিলেন লার্জ বেঞ্চ।
তবে সুপ্রিমকোর্ট যদি লার্জ বেঞ্চের বিপক্ষে রায় দেয় তাহলে বাবরী মসজিদের পুরো জায়গাটি একোয়ার করার রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, বাবরী মসজিদ ও রাম জন্মভূমি বিষয়ক মামলাটির শুনানি এখনো হয়নি। এজন্য পূর্ণ কোন রায় এখনি আসছে না।
বর্তমানে বাবরী মসজিদ মামলার শুনানি তিনজনের একটি বেঞ্চ করে আসছে। যেখানে আছেন, চিফ জাস্টিস অফ ইন্ডিয়া, দীপক মিসরা- জাস্টিস আশোক ভূষণ এবং জাস্টিস এইস আব্দুন্ নাজির। এলাহাবাদ কোর্টের মাধ্যমে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১০-এর রায়ের বিপক্ষে সুপ্রিমকোর্টে এই মামলার শুনানিটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে আছে।
হাইকোর্টের রায়ে বাবরী মসজিদের জায়গাকে তিনভাগে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। যেখানে একভাগ মুসলিমদের। একভাগ হিন্দুদের আরেকভাগ রাম লালকে দেয়া হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে মুসলিম দল সুপ্রিমকোর্টে পুনরায় আপিল করেছেন। আর হাইকোর্টের এই রায় হিন্দু দলেরও পছন্দ হয়নি। এ বিষয়ে দু’পক্ষ থেকেই নয়টি করে দল আছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ দল হলো জমিয়তে উলামা হিন্দ এবং মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে সুপ্রিমকোর্টে পুনরায় চ্যালেঞ্জ করেছে জমিয়তে উলামা হিন্দ এবং মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। কিন্তু এই মামলার শুনানি দীর্ঘ পাঁচ বছর ঝুলে থাকার পর। আরো পরে এসে ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে শুরু হয়েছে। মূলত এই মামলার প্রধান বিষয়টি হলো মূল মালিকানাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিষয়টি এখানেই ঝুলে আছে যে, এটিকে লার্জ বেঞ্চের নিকট সোপর্দ করা যায় কিনা!
এ বিষয়ে জমিয়তে উলামা হিন্দের এক দায়িত্বশীল ও মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য, আইনজীবী যফর ইয়াব জিলানী বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর সম্ভবত এই রায় আসতে পারে যে, নামাজের জন্য মসজিদকে গুরুত্বপূর্ণ মনে না করা ইসমাইল ফারুকির মামলার ব্যাপারে পুনরায় চিন্তা করার প্রয়োজন আছে কিনা। এখন আদালত যদি এটি মেনে নেয়। যে ন্যায় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। তাহলে পুনরায় মামলাটি আইনি বেঞ্চের কাছে চলে যাবে। এরপর আদালত যখন এর মালিকানার ব্যাপারে প্রয়োজন মনে করবে তখন রায় দিবে।
উল্লেখ্য, ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২-এ অযোধ্যায় বাবরী মসজিদ নিয়ে সংঘর্ষে শতশত লোক শহীদ হয়েছিল।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামাজ দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

