অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত : প্রধানমন্ত্রী

অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত : প্রধানমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে ১৪ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশনে সরকার কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। বরং নির্বাচন কমিশন যদি চায় তাহলে সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের প্রধানমন্ত্রী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

সংলাপে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন প্রসঙ্গে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ড. কামাল হোসেনকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর চিঠির উত্তরে একটা বিষয় লেখা ছিল-গণতন্ত্রের স্বার্থে সংবিধান সম্মত সব বিষয়ে আলোচনা হবে। পৃথিবীর কোন গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া হয় না। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশেও নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল থাকে। তফসিল ঘোষণার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যায়। প্রধানমন্ত্রী তাদের একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অত্যন্ত খোলামেলা পরিবেশে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আলোচনা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা যে যা বলতে চেয়েছেন, তারা তা নির্দ্বিধায় বলেছেন। একেকজন তিন-চার বার করেও বক্তব্য রেখেছেন। কেউ তাদের বাধা দেননি। নেত্রী তাদের বক্তব্য মনযোগ দিয়ে শুনেছেন। তাদের কিছু অভিযোগ ছিল, আমরা ভদ্রচিতভাবে এগুলোর জবাব দিয়েছি। আমাদের সিনিয়র নেতারাও এ সময় বক্তব্য রেখেছেন।

সেতু মন্ত্রী বলেন, আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। কিছু কিছু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তাদের পরিস্কার বলে দিয়েছেন সভা, সমাবেশ ও মতপ্রকাশে কোন বাধা দেয়া হবে না। তবে কেউ যেন রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ না করেন। ঢাকার ব্যাপারে বলেছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি কর্ণার করে দেয়া হবে, যেখানে ভাড়ার বিনিময়ে সবাই সমাবেশ করতে পারবেন। এই টাকাটা নেয়া হবে সমাবেশ পরবর্তী সময়ে পরিচ্ছন্নতার জন্য।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঐক্যফ্রন্টের আরেকটি দাবি ছিল বিদেশী পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এ ব্যাপারে কোন আপত্তি নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বিষয়ে কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা এই প্রযুক্তির ব্যবহারকে সমর্থন করি। তবে নির্বাচন কমিশন আগামী নির্বাচনে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করবে।

রাজনৈতিক মামলার ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আপনারা রাজনৈতিক মামলাগুলোর তালিকা দিন।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি আদালতের বিষয়, সংলাপে এটা আসতে পারে না। যে দুটি মামলায় সাজা হয়েছে, এগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়েছে। আমাদের সরকার এই মামলা দেয়নি। আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা ছিল। এগুলোর প্রত্যেকটির তদন্ত হয়ে কিছু না পেয়ে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন বলেন, সেনাবাহিনী প্রসঙ্গে আলোচনায় ড. কামাল হোসেন সাহেবকে প্রশ্ন করা হয়েছে, ৭৩ সাল থেকে আপনিও অনেকগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। একমাত্র ২০০১ সালে ছাড়া আর কোন নির্বাচনে কি সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা ছিল?
ওবায়দুল কাদের বলেন, আলোচনায় বেশ কিছু অগ্রগতি রয়েছে। ড. কামাল হোসেন সাহেব আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি আলোচনায় সন্তুষ্ট। এখানে এসে এমন অনেক কিছু জানতে পেরেছেন, যা আগে তিনি জানতেন না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *