ক্রীড়া ডেস্ক : তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ করার পর শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্ট খেলতে নেমেছে টাইগাররা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অভিষেক টেস্টের প্রথম দিনে আধিপত্য বিস্তার করে রাখলেন বাংলাদেশি বোলাররা।
শনিবার দিনশেষ সফরকারীদের ৫ উইকেট তুলে নিতে পেরেছে স্বাগতিক দল। মাসাকাদজার ৫২ এবং উইলিয়ামসের ৮৮ রানে ভর করে দিনশেষে ২৩৬ রান তুলেছে জিম্বাবুয়ে। খেলা হয়েছে মোট ৯১ ওভার।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ দিয়ে টেস্ট আঙিনায় অভিষেক ঘটছে আরিফুল হক ও নাজমুল ইসলামের। সাথে টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক ঘটেছে সিলেট স্টেডিয়ামের। অভিষেকের পালা শেষ হয়নি। সবচেয়ে দারুণ অভিষেকটা বুঝি হয়েছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। পঞ্চ পাণ্ডবের এ একজন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের টেষ্ট নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ হিসেবে তাঁরও একরকম অভিষেকই। সবকিছু মিলিয়ে এক পেসার ও তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের দলীয় ৩৫ রানেই জিম্বাবুয়ের ওপেনার ব্রায়ান চারি ১৩ রান করে বোল্ড হয়ে যান তাইজুলের বলে। ১২ রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় আঘাত হানেন তাইজুল। এই বাঁহাতির ঘূর্ণিবলে নাজমুলের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর (৬)।
ব্রেন্ডন টেইলর আউট হওয়ার পর শন উইলিয়ামসকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৩৮ রান। এর মাঝেই মাসাকাদজা ৯১ বলে ৪টি চার এবং ২ ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন। আবু জায়েদের বলে বোল্ড হওয়ার সময় তার সংগ্রহ ৫২ রান। জিম্বাবুয়ের তৃতীয় উইকেটের পতন হয় দলীয় ৮৫ রানে।
জিম্বাবুয়ের চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে দলীয় ১২৯ রানে। সিকান্দার রাজাকে (১৯) বোল্ড করে দেন অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা নাজমুল ইসলাম অপু। প্রথম টেস্ট উইকেট নিয়েই শুরু হয় অপুর বিখ্যাত ‘নাগিন নাচ’। এরপর শুরু হয়ে শন উইলিয়ামসের লড়াই। ১২৪ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। কিন্তু তিন অংকের খুব কাছে গিয়েও স্পর্শ করা হলো না উইলিয়ামসের।
কোনোভাবেই ভাঙা যাচ্ছিল না পঞ্চম উইকেট জুটি। পিটার মুরকে নিয়ে উইলিয়ামস জুটিতে তুলে ফেলেছিলেন ৭২ রান। সেঞ্চুরির খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন উইলিয়ামস। শেষ অবধি নিজেই বল হাতে তুলে নিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। তার বলে স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ নিলেন মেহেদী মিরাজ। আক্ষেপ জাগিয়ে থামল ১৭৩ বলে ৯ বাউন্ডারিতে গড়া উইলিয়ামসের ৮৮ রানের চমৎকার ইনিংস। দিনের বাকী সময়টা পিটার মুর (৩৭*) এবং রেজিস চাকাভা (২০) অবিচ্ছিন্ন থেকে কাটিয়ে দেন।
বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ১টি করে নিয়েছেন আবু জায়েদ, মাহমুদউল্লাহ এবং অভিষিক্ত নাজমুল ইসলাম অপু।
এই ম্যাচের মধ্যে দিয়ে টেস্ট অভিষেক হয়ে গেল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের। এর আগে এই মাঠে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হলেও সাদা পোশাকের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। সিলেট দেশের ৮ম টেস্ট ভেন্যু এবং বিশ্বের মধ্যে ১১৬তম।বাংলাদেশের কাছে সর্বশেষ চার টেস্টেই হেরেছে জিম্বাবুয়ে। এই সিরিজের আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের কাছে সর্বশেষ চার টেস্টেই হেরেছে জিম্বাবুয়ে। এই সিরিজের আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। শক্তির বিচারে টেস্টেও বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের চেয়ে এগিয়ে। বাংলাদেশের দুই মহাতারকা সাকিব তামিমকে ছাড়াও এ সিরিজে শক্তিশালী বাংলাদেশ। তাই বাঙালী ক্রিকেট ভক্তরা আশা করতেই পারে টেস্ট দুটি জয়ের। ক্যাপ্টেন হিসিবে মাহমুদুল্লাহর চাওয়াটাই থাকবে সবচেয়ে বেশী। ভেন্যু হিসেবে সিলেটেও ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাবে। দেখা যাক। সময় কি বলে!
বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, নাজমুল হোসেন, মমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম ও আবু জায়েদ।
জিম্বাবুয়ে একাদশ: হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ব্রায়ান চারি, ব্রেন্ডন টেইলর, শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা, পিটার মুর, রেজিস চাকাভা, ব্র্যান্ডন মাভুটা, কাইল জার্ভিস, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, টেন্ডাই চাটারা।


