পাথেয় রিপোর্ট : কওমি মাদ্রাসার জন্য নজিরবিহীন একটি কাজ করেছেন, যা ইতিপূর্বে কেউই করেনি। আমরা তাকে শুকরিয়া জানাতেই কাল সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে একত্র হব বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, এ ঐতিহাসিক শোকরানা মাহফিলে সারা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষ অাসতে পারে। সব মাদরাসাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনে তাদের শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। তবে আমরা আমাদের প্রস্তুতি ঠিকঠাক সেড়ে নিয়েছি। বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া বোর্ড সেখানে ব্যাপক প্রস্তুতির সাথেই অংশগ্রহণ করবে।
এসময় ঐতিহাসিক পথযাত্রার কথা উল্লেক করে তিনি বলেন, ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদীরা উপমহাদেশে আলেম অার সাধারণের মাঝে একটা বিভেদ তৈরী করে দিয়ে গেছে। এ বিভেদ দূর করতেই বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা সারাদেশে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
০৩ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় জমিয়তের এক বিশেষ বৈঠকে এ কথা বলেন আল্লামা মাসঊদ।
আগামীকাল ০৪ নভেম্বর হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতুল কওমিয়া বাংলাদেশ আয়োজিত শোকরানা মাহফিল ও জমিয়তুল উলামার দেশব্যাপী পথযাত্রার ২য় পর্বের প্রস্ততি ও সার্বিক সব বিষয়াদি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠক করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা।
বৈঠকে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আলেম- জনতা ঐক্য করতেই আমাদের এ ঐতিহাসিক পথযাত্র। ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদীরা উপমহাদেশে আলেম অার সাধারণের মাঝে একটা বিভেদ তৈরী করে দিয়ে গেছে। সেই বিভেদ আমাদের ভেতর এখনো রয়ে গেছে। যতদিন এ বিভেদ দূর না হবে, ততদিন ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা সাধারণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, বস্তুত আলেমরাই হলেন জাতির নেতা। সাধারণরা অালেমদের থেকে যত বেশী দূরে যাবেন। শয়তান তাদেরকে তত বেশী গ্রাস করে নিবে। শয়তানের বন্ধু হবে। তাই আমরা এ দুরত্বকে দূর করতে চাই। বাতাসে আল্লাহর নামকে জারি করে দিতে চাই। এটা একটা দার্শনিক পদ্ধতি। নবী ও রাসূলের দাওয়াতের পদ্ধতি। তাঁরা সব জায়গাতেই আল্লাহর নামের আওয়াজ তুলে দিতেন। আমরাও তাই করবো। মানুষ যেখানে যাই হোক আমরা সবখানেই আল্লাহর নামের আওয়াজকে তুলে দিতে চাই। বাতাসে আল্লাহর নামের আওয়াজ ভারি করতে চাই। ইনশাঅল্লাহ, আল্লাহ আমাদের সমাজ থেকে সমস্ত অনাচার দূর করে দিবেন। এই কাজে আলেম-জনতার এক হবার মাধ্যমে ঐক্যও প্রতিষ্ঠা হবে বলে মনে করেন আল্লামা মাসঊদ।
সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আলেমজনতার ঐক্য প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐতিহাসিক পথযাত্রার প্রথম পর্বের আগামী ১৭ নভেম্বর-২২ নভেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আজকের বৈঠকে। তবে প্রয়োজনে তারিখ পরিবর্তন বা অন্যকোন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে।
এসময় আগামীকালের শোকরানা মাহফিল সম্পর্কেও বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া বাংলাদেশ বোর্ড সংশ্লিষ্ট সকল মাদরাসা থেকেই ছাত্র শিক্ষকরা এ অনুষ্ঠানে ব্যাপক প্রস্ততি নিয়ে আসছে বলে জানায় উপস্থিত বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা।


