পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সব জল্পনা কল্পনা আর ভাবনার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনে যাচ্ছে দলটি। শেষ পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। নতুন এই রাজনৈতিক জোট ভোটে যাওয়াকে আন্দোলনের অংশ বলছে।
১১ নভেম্বর রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোটে যাওয়ার ঘোষণা দেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। অবশ্য তাঁরা নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বর্তমান তফসিল বাতিল করে এক মাস পিছিয়ে ভোটের তারিখ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। বিএনপি, গণফোরাম, জাসদ (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। সেখানে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, তাঁরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দিকে কড়া নজর রাখবেন।
ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণার ১৫ মিনিট আগে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটও ভোটে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ২০-দলীয় জোটের নেতা এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ এই ঘোষণা দেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জোটের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি এখন দুটি রাজনৈতিক জোটে আছে। একটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, অন্যটি ২০-দলীয় জোট। আজ সরকারবিরোধী দুই জোটই কাছাকাছি সময় ভোটে যাওয়ার ঘোষণা দিল।
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি দুই জোটেরই। দুই জোটের একটি অভিন্ন বার্তা দিয়েছে যে, নির্বাচনে সমতল ক্রীড়াভূমি (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) সৃষ্টি করার দাবি দুই জোটেরই।
এ দুটি জোটেরই প্রধান শরিক বিএনপি। রাজপথের বিরোধী দল বিএনপিকে সামনে রেখেই নির্বাচন করবে ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোট নেতাদের মূল দাবি হচ্ছে-নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া। ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের তারিখ অন্তত এক মাস পিছিয়ে দেয়ার দাবি করেছে। সেই সঙ্গে নতুন তফসিল ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানিয়েছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত খুবই কঠিন। কিন্তু এ রকম ভীষণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে ঐক্যফ্রন্ট সাত দফা দাবি থেকে পিছিয়ে আসছে না জানিয়ে ফখরুল বলেন, তার সঙ্গে তফসিল পিছিয়ে দেয়ার দাবি তারা যুক্ত করছেন। ফখরুল বলেন, আমরা বর্তমান তফসিল বাতিল করে নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দিয়ে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি করছি। সে ক্ষেত্রেও বর্তমান সংসদের মেয়াদের মধ্যেই নির্বাচন করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জনগণের। এ দাবি পূরণ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাসদ সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ডা. জাফরউল্লাহ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর প্রমুখ।


