ফয়জুল্লাহ আমান— এর দুটি কবিতা

ফয়জুল্লাহ আমান— এর দুটি কবিতা

ফয়জুল্লাহ আমান— এর দুটি কবিতা

 

পশুর হৃদপিণ্ড

আগের মত হাসতে পারি না কাঁদতে পারি না
আগের মত কইতে পারি না কথা

সোনালী হাসিগুলো হারিয়ে গেছে
বৃষ্টি ভেজা বিকেলের মধুর হাসি তরঙ্গ হারিয়ে গেছে অজানা বনে

সেই বর্ষণের রিমঝিম শব্দ শুনি না বহু দিন
শীতের শুষ্কতা শেষ হতে চায় না শুকনো জীবনে
কত কাল সেই দিল খোলা হাসির ছররা নেই
কত সন্ধ্যা নয়নে নামে না প্রবল শ্রাবণ ধারা

ফুরিয়ে গেছে প্রফুল্লতা
দীপাবলী উৎসবের ন্যায় জাকজমক কোন পার্বণেও দেখি না বহু শতাব্দী

টঙ্গি তুরাগ তীরে চলছে দু পক্ষের লড়াই
আঁধারে ছেয়ে যাচ্ছে বাঙলার আকাশ

ধ্যানমগ্ন আমি বাম বুকে তাকাই
এখানেই হৃদয়ের বসবাস বলে শোনা যায়

আমার বুকে সেই আগের মত্ই…
সেই আগের মতই গ্রন্থিত হয় সুকোমল প্রেম
শরতের নীলাকাশে শাদা মেঘের মত আমার বেদনা বিধূর নীল হৃদয়ে অনুরণিত হচ্ছে শুভ্র ক্রন্দন রোল।

সব কিছু আগের মতই চলছে ঠিকঠাক
তবু মনে হয় মানুষের বুকে স্থাপিত হয়েছে পশুর হৃদপিণ্ড।

 

অব্যক্ত ধূসর বর্ণিল শব্দ সমুদ্র সমক্ষে

আমার কষ্টে জোড়া দেওয়া বর্ণিল বর্ণগুলো কেউ শুনছে না মাধবীলতা
অথচ অনেক কথার তোড়া জমে আছে বুকের ভেতর বহু দিন বহু সন্ধ্যা
সবার কান দেখছি বধির হয়ে গেছে
শব্দের পর শব্দ গেথে গেলেও কারও সাড়া পাবার সম্ভাবনা নাই

ঢাকার মাটিতে পথ ঘাটে তেরাস্তার মোড়ে আমার নরম কোমল কথাগুলো রেখে দিয়েছি এলো মেলো অগোছালো আলগোছ করে
লতার মত কথাগুলো মাটিতে ছড়িয়ে থাক ধূলিকণার মত উড়ুক হাওয়ায়
আমার মনের ব্যাথাগুলো কারও নজরে পড়তে হবে না চট জলদি

ব্যস্ত পথযাত্রীদের দয়াদৃষ্টি চাব না আজ
চমকে উঠব না নির্দয়তার চিত্র দেখে

এসব অপ্রাপ্তি জমে এক সময় ফলদার বৃক্ষ হবে
সোনার খনি হবে আমার জমানো অনুভূতি দিয়ে
উপলব্ধির দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসবে অসংখ্য মুক্তরাজি
সাধগুলো প্যাট্রলের ধোঁয়ার মত বৃথা ওড়ে বাতাসে
অভ্যন্তরে দমিয়ে রাখতে হয় সব সংকল্প কঠিন সময়।

অনুভবের কোমলতাগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে রাজনীতির আগুনে
প্রেমেও ধরেছে পলিটিক্সের বিচিত্র রঙ
এখন ভাবনাগুলো প্যাকেটজাত করে কাজ কী?
ইমিগ্রেসনে বসে আছে বড় বড় ঘুষখোর
আমার প্রেম প্রচারের জন্যও বিরাট ট্যাক্সের বোঝা বইতে হবে
তারচেয়ে আবর্জনায় ফেলে রাখি উপদেশের ফুল
অনুভবের রাঙা সকালগুলো সূর্য থেকে দূরে থাক জন্ম জন্মান্তর।

হৃদয়ের কথা কেবল আরেকটি হৃদয় অনুধাবন করতে পারে
তা না হলে এমন অবহেলায় পড়ে থাকে সহস্র বছর
অন্তর শুকিয়ে গেলে সেখানে আর ফুল ফুটানো যায় না
একবার নিষ্প্রাণ হলে আর অবমুক্ত করা যায় না ঘুমন্ত আত্মার বন্ধ কুঠুরী
আনমনে আমি শুকনো ডালের পাতার মত ছড়িয়ে দিব সব অতীত পুরাতন কথা নির্জন বনাঞ্চল মরুভূমির মত তৃণলতাশূন্য অন্তরসমূহের বিরাট বালিয়াড়ি
সংকীর্ণ প্রকোষ্ঠগুলো প্রশস্ততর হয়ে ছড়িয়ে পড়বে চতুর্দিকের ধূসর বর্ণিল অব্যক্ততায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *