পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি মুসলিম বিরোধী মন্তব্য করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি এবং তার নেতারা মুসলিম বিরোধী ও পাকিস্তান বিরোধী।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এ দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ইমরান খানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য আপনি সব রকম চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে, এ ব্যাপারে কী বলবেন?
জবাবে ইমরান খান বলেন, আমি জানি, এই মুহূর্তে সে দেশে নির্বাচন চলছে। সেখানকার শাসক দল মুসলিম বিরোধী এবং পাকিস্তান বিরোধী মনোভাবে চলে। তাই তারা আমার সমস্ত প্রস্তাব স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে দু’দেশের আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইমরান। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে করার জন্য। তবে জঙ্গিবাদ ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না বলে পাকিস্তানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় নয়াদিল্লি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আর কখনও আপনাদের ভাড়াটে খুনি হব না। মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ইমরান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সঠিক সম্পর্কটিই চাচ্ছেন তিনি।
বেশ কয়েক দিন আগে ইমরান খানকে লেখা এক চিঠিতে আফগান যুদ্ধের অবসানে ও তালেবানকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে পাকিস্তানের সহায়তা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের সঙ্গে টুইটার যুদ্ধ নিয়ে ইমরান খান বলেন, এটি সত্যিকার অর্থে কোনো টুইটার যুদ্ধ ছিল না। বরং সত্য কথাগুলো প্রকাশ করতে এসব কথা বলা হয়েছে।
দুই নেতার টুইটার লড়াইয়ে আফগানিস্তানে ব্যাপক ত্রুটিপূর্ণ মার্কিন নীতিকে দায়ী করা হয়েছে। তালেবানকে আশ্রয় দেয়ার মার্কিন অপপ্রচার অস্বীকার করে তিনি বলেন, এখানে তালেবানের কোনো আশ্রয় নেই।
জঙ্গিদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইমরান খান বলেন, আমরা ২৭ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছি। আফগান-পাকিস্তান সীমান্তের বড় অংশ নজরদারিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উপগ্রহ ও ড্রোন আছে। এসব লোক সীমান্ত পাড়ি দিলে তাদের দেখতে পাওয়ার কথা।
ট্রাম্পের সহায়তা চাওয়া প্রসঙ্গে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের স্বার্থে আফগানিস্তানের শান্তি প্রতিষ্ঠা দরকার। আমরা সব কিছু করব। আমরা বছরের পর বছর ধরে বলে আসছি- আফগানিস্তান সংকট সামরিক উপায়ে সুরাহা হবে না। তারা আমাকে তালেবান খান বলে ডাকছেন। যদি আপনি মার্কিন নীতির সঙ্গে একমত পোষণ না করেন, তবে আপনি আমেরিকা বিরোধী।


