পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের প্রসিদ্ধ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শূরার অন্যতম সদস্য, জমিয়তে উলামা হিন্দের সাবেক উমুমি নাজেম ও বিহার রাজ্যের কিষাণগঞ্জের বর্তমান এমপি মাওলানা আসরারুল হক কাসেমীর ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞান করেছেন ভারত-বাংলাদেশ পৃথিবীর বিখ্যাত বেশ কজন আলেম। তারা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনাসহ পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছেন।
গভীর শোক জ্ঞাপন করে জমিয়তে উলামা হিন্দের চেয়ারম্যান মাওলানা কারী সাইয়্যিদ মোহাম্মদ উসমান মানসুরপুরী বলেন, মাওলানা আসরারুস হক কাসেমী ইসলাম এবং ইলমে দ্বীনের প্রচার ও বিকাশে তিনি যে অবদান রেখেছেন তা অতুলনীয়। তিনি একজন প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন ও দক্ষ লেখক ছিলেন।
উসমান মানসুরপুরী বলেন, মাওলানা আসরারুল হক জীবদ্দশায় ইসলামী অঙ্গনে যে কীর্তি রেখে গিয়েছেন তা ইতিহাসে সমোজ্জ্বল হয়ে থাকবে। আমি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত ও দারাজাত বুলন্দির দোয়া করছি৷
মাওলানা আসরারুল হক কাসেমী ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেলের সেক্রেটারি, জমিয়ত ইয়ুথ ক্লাবের প্রধান মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী বলেন, মাওলানা আসরারুল হক ইলমে আমলে ও সমাজসেবক হিসেবে একজন তুলনাহীন মানুষ ছিলেন। তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী। লেখালেখিতে তার প্রচুর দক্ষতা ছিল। ‘আল খালকু ইয়া লুল্লাহ’ এর বাস্তব নমুনা ছিলেন এবং ‘মওতুল আলিমী মওতুল আলম’ এর মেসদাক ছিলেন তিনি।
জমিয়তে উলামা হিন্দের আরেক অংশের চেয়ারম্যান ও দারুল উলূম দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী মাওলানা আসরারুল হকের ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, মাওলানা আসরারুল হক নিজের সৌজন্যতাবোধের কারণে, সদালাপী হওয়ায় সব ধরনের মানুষের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। মাওলানা আসরার কেবল ভাষণেই পটু ছিলেন না। তিনি লেখালেখিতেও দক্ষ একজন মানুষ ছিলেন। তার এই চলে যাওয়া মুসলিম জাতির জন্যই অনেক বড় ক্ষতির কারণ হিসেবেও উল্লেখ করেন মাওলানা আরশাদ মাদানী।
জমিয়তে উলামা হিন্দের এই চেয়ারম্যান বলেন, দ্বীনী ও তালিমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে চলার এই সেতুবন্ধে সবসময় মাওলানা আসরারুল হক স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মাওলানা আসরারুল হকের পরিবার, সন্তান সন্তুতি ও সংশ্লিষ্ট সব আত্মীয় স্বজনদের ধৈর্যের আহ্বান জানান মাওলানা মাদানী।
মাওলানা আসরারুল হক কাসেমীর ইন্তেকালে গভীর শোক জানিয়ে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ‘ল’ বোর্ডের মুখপাত্র এবং ইসলামী ফিকাহ একাডেমীর প্রধান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রহমানি বলেন, মাওলানা আসরারুল হক ভারতের শীর্ষ আলেমেদ্বীন ছিলেন। দ্বীনের বিভিন্ন শাখায় তার অবদান ছিল অতুলনীয়। মাওলানা আসরারুল হক কাসেমীর মাগফিরাত কামনাসহ শোকাহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রহমানী।
বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ গভীর শোক জানিয়ে বলেন, আমরা একটি রত্ন হারিয়েছি। ভারতের একজন সুদক্ষ সমাজ বিনির্মাতা ছিলেন মাওলানা আসরারুল হক কাসেমী। আল্লামা মাসঊদ শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
মাওলানা আসরারুল হক কাসেমীর ইন্তেকালে আরো শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানী, দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা মোহাম্মদ সুফিয়ান কাসেমী, মাওলানা বদরুল হাসান কাসেমী, মাওলানা আব্দুল হামীদ নুমানী, মাওলানা হাকীম আফজাল কাসেমী, মাওলানা আবুল কালাম শামসী, মাওলানা ফাইরুজ আখতার কাসেমী, প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর নিবেদিত ভারতের প্রসিদ্ধ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শূরার অন্যতম সদস্য ও বিহার রাজ্যের কিশানগঞ্জের বর্তমান এমপি ও পার্লামেন্ট সদস্য মাওলানা আসরারুল হক কাসেমী ৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন।
জমিয়তে উলামা হিন্দের অফিস সূত্রে জানা যায়, মাওলানা আসরারুল হক কাসেমী বেশ কিছুদিন যাবৎ গুরুতর অসুস্থ ছিলেন৷ অসুস্থতা তীব্র আকার ধারণ করলে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ কিছুদিন ভর্তি থাকার পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখা দেয়৷ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন তিনি। বৃহস্পতিবার থেকে আবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিজ বাসায় ভোর ৩ টা ৩০ মিনিটে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ভারতের বর্ষীয়ান আলেমেদ্বীন মাওলানা আসরারুল হক কাসেমীর মৃত্যুর সময বয়স হয়ে ছিলো ৭৬ বছর।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সূত্র : উর্দু অনলাইন নিউজ পোর্টাল, জমিয়তে উলামা হিন্দ অফিস
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


