যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ দরকার  — ২য়  পর্ব

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ দরকার — ২য় পর্ব

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ দরকার

মো. সিরাজুল হক : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ৭৬ ধারায় যৌন হয়রানি বা উত্ত্যক্ততা বিষয়ে বলা হয়েছে-যদি কেউ কোনো রাস্তায় বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে বা সেখান হতে দৃষ্টিগোচরে স্বেচ্ছায় এবং অশালীনভাবে নিজদেহ এমনভাবে প্রদর্শন করে, যা কোনো গৃহের ভিতরে থেকে হোক বা না হোক, কোনো নারী দেখতে পায় বা স্বেচ্ছায় কোনো রাস্তায় বা সর্বসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে কোনো নারীকে পীড়ন করে বা তার পথরোধ করে বা কোনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করে, অশ্লীল আওয়াজ, অঙ্গভঙ্গি বা মন্তব্য করে কোনো নারীকে অপমান বা বিরক্ত করে, তবে সেই ব্যক্তি এক বছর মেয়াদের কারাদ- অথবা ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০৩ অনুযায়ী অবৈধভাবে যৌনাঙ্গ বা অন্য কোনো অঙ্গ স্পর্শ করে এবং শ্লীলতাহানি করা হলে অনধিক ১০ বছর কারাদ- কিন্তু ন্যূনতম তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। এছাড়া হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ইভ টিজিং’ একটি যৌন নির্যাতন হিসেবেও গণ্য হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ দুই বছর সাজা দিতে পারবেন। কোনো নারীকে বিরক্ত করার জন্য ভিডিও বা ছবি তুলে কোনো অনলাইনে প্রকাশ করলে সাইবার অপরাধ হিসেবেও তা গণ্য হতে পারে, যার শাস্তি কমপক্ষে সাত বছরের জেল এবং জরিমানা।

১৮৬০ সনের দণ্ডবিধি আইনের ৩৫৪ ধারায় বলা হয়েছে- যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর শালীনতা নষ্ট করার অভিপ্রায়ে বা সে এর দ্বারা তার শালীনতা নষ্ট করতে পারে জেনেও তাকে আক্রমণ করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে, তাহলে সে ব্যক্তি ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৯৪ ধারায় বলা হয়েছে-যদি কোনো ব্যক্তি অন্যদের বিরক্তি সৃষ্টি করে কোনো প্রকাশ্য স্থানে অশ্লীল কার্য করে অথবা কোনো প্রকাশ্য স্থানে বা তার সন্নিকটে কোনো অশ্লীল গান, আবৃত্তি বা অসংলগ্ন উচ্চারণ করে, তাহলে সে ব্যক্তি ৩ মাস পর্যন্ত যে কোনো ধরণের কারাদ- বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ (খ) ধারায় বলা হয়েছে- যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ১০ বছর কিন্তু অন্যূন ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯ ধারা অনুযায়ী যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদ-ে দ-িত হবেন। ধর্ষণ পরবর্তী নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত অন্যূন এক লাখ টাকা অর্থদ-ে দণ্ডিত হবেন।

নারী বা শিশু কোনো ধরনের উত্ত্যক্ততার শিকার হলে সংকোচ করা উচিত নয়। আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত, কারণ আইনের আশ্রয় নেওয়া মানে হচ্ছে এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করা এবং আইনিভাবে প্রতিকার চাওয়া। কেউ যৌন হয়রানির শিকার হলে কাছের থানায় গিয়ে জানানো উচিত। লিখিত অভিযোগও করা যেতে পারে।

লেখক : কলামিস্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *