পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কোন জায়গা হবে না মন্তব্য করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ফেরুয়া চলবে না। এখানকার মানুষ সচেতন। ২০১৯-এর লোকসভার পরে অমিত শাহের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই বিষয়ে তাকে ভাবতে বলুন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ছিল, তৃণমূল আছে, আগামীদিনেও থাকবে। এখানে বিজেপির কোন জায়গা হবে না।
২২ জানুয়ারি মঙ্গলবার ভারতে পশ্চিমবঙ্গের কুলিয়ারচরে একটি জনসভায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে আক্রমণ করে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এসব কথা বলেন।
বর্ষাকালে অনেক কোলাব্যাঙ দেখতে পাওয়া যায় উল্লেখ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী বলেন, আমরা বর্ষাকালে অনেক কোলাব্যাঙ দেখি কিন্তু বর্ষা শেষ হলেই তাদের আর দেখা মিলে না। পাওয়া যায় না। ২০১৯-এর লোকসভা পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল থেকেও অমিত শাহকে ছুড়ে ফেলা হবে। অমিত শাহ তো বর্ষাকালের কোলাব্যাঙের মত।
মঙ্গলবার বিকেলেই কুলিয়ারচরে সুজাপুর বাজারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ জমিয়তে উলামা হিন্দের একটি কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মী সম্মেলনে রাজ্যের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মালদা জেলা সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জমিয়তে উলামা হিন্দের জেলা সভাপতি আব্দুল হাই প্রমুখ।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরে জমিয়তে উলামা হিন্দের একটি আলোচনা সভায় মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি বলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দের একটি সব থেকে বড় কর্মসূচি হচ্ছে সম্মিলিত জাতীয়তদাবাদ। এর মধ্যে ভারতের আসমুদ্র হিমালয় যে কোন জায়গায় যে কোন মানুষ একই সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করবে। এটাই হচ্ছে আমাদের সমগঠনের মূল বক্তব্য। সাম্প্রদায়িক শক্তি, বিচ্ছিন্নতাবাদ কেউ বরদাস্ত করবেন না। তবে হঠকারিতাবসত কেউ কোন কাজ করবেন না। কোন সাম্প্রদায়িক শক্তি যদি মাথাচাড়া দেয়, তবে খুব ঠাণ্ডা মাথায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।
উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, দেশে একটি সরকার চলছে। সেই বিজেপি সরকার জাতপাতের ভিত্তিতে দেশের মানুষকে ভাগ করে দিতে চাইছে। এই বিষয়ে সবাই সচেতন থাকবে। দেশের বুকে প্রথম এমন সরকার দেখা গেছে, যারা দেশের মানুষ কী খাবে, কী পড়বে, সব ঠিক করে দিচ্ছে। সামান্য একটি অজুহাত সৃষ্টি করে যেখানে সেখানে উত্তেজনা বাঁধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আর এই কাজে তাদের সংগঠনের প্রচুর কর্মী ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগুন জ্বেলে ঘি ঢেলে দিয়ে দাউদাউ করে জ্বালিয়ে দেওয়ার কাজ করছে। ফলে সবাই সাবধান থাকতে হবে। কারও প্ররোচনায় কেউ পা দেবেন না।
গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

