তালেবানের সঙ্গে সমঝোতা হলে সেনা ফিরিয়ে নেবেন ট্রাম্প
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আফগানিস্তানের দীর্ঘকালের যোদ্ধাবাজ সংগঠন তালেবানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে আমেরিকার সেনাসদস্যদের ফিরিয়ে নেবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তার প্রশাসন প্রথমবারের মতো তালেবানের সঙ্গে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে এবং এর পেছনে কারণও আছে। এ পর্যন্ত আলোচনা সন্তোষজনকভাবে এগিয়েছে বলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন।
তিনি বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, তালেবানরা প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদি চুক্তি করা সম্ভব হয় তাহলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
গত শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবান ও মার্কিন প্রতিনিধিরা তাদের ছয় দিনব্যাপী সংলাপ শেষ করেন। আফগান সরকার বলেছে, মার্কিন কর্তকর্তারা তাদেরকে এই বলে আশ্বস্ত করেছেন যে,তালেবানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনার মূল লক্ষ্য আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করা।
কাতারে তালেবানের রাজনৈতিক দপ্তরে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করতে প্রবেশ করছেন তালেবান প্রতিনিধিরা
এদিকে তালেবান সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, দোহা সংলাপে দু’পক্ষ একটি শান্তি চুক্তির খসড়া প্রণয়নে সম্মত হয়েছে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারেও ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তালেবান দাবি করেছে। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র পরে সেনা প্রত্যাহারের কোনো সময়সীমা নির্ধারণের কথা অস্বীকার করেছে।
তালেবান আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসলেও আফগান সরকারের সঙ্গে সংলাপে অনীহা প্রকাশ করেছে।
এদিকে যুদ্ধ আফগানিস্তানে, চাবি পাকিস্তানে এমনই এক তথ্য দিলেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। তিনি বলেছেন, তালেবান জঙ্গিদের জন্য ইসলামাবাদ, কোয়েটা ও রাওয়ালপিন্ডিতে অভয়ারণ্য তৈরি করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কাজেই আফগান যুদ্ধ বন্ধের ‘চাবি’ ওই তিন শহরে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার দেশের জঙ্গিদের জন্য পাকিস্তানের তিনটি শহর উন্মুক্ত করে দেয়ার দায়ে ইসলামাবাদকে অভিযুক্ত করেছেন।
তিনি রাজধানী কাবুলে এক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেছেন, আফগান সরকারের পাশাপাশি আমেরিকা বহুদিন ধরে তালেবান কমান্ডারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে এসেছে। ওয়াশিংটন ও কাবুল বলছে, আফগান সীমান্তের ওপারে তালেবান জঙ্গিদের অবাধ চলাফেরা ও তৎপরতা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ।


