নিজস্ব প্রতিবেদক ● গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম ও তীব্র রোদে বিভিন্ন স্থানে রেললাইন বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। পানি ঢেলে বাঁকা লাইন ঠাণ্ড করা হলেও ওসব পথে গতি কমিয়ে ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন চলাচল করছে। গত কয়েকদিনে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে রেললাইন বাঁকা হয়ে যাওয়ার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্র্যন্ত গতি কমিয়ে ট্রেন চালানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, তীব্র রোদ ও গরমে রেললাইন বাঁকা হয়ে যাওয়ার কারণে রেল কর্তৃপক্ষ লাইনে টহল বাড়িয়েছে। যেখানেই বাঁকা লাইন দেখা পাচ্ছে সেখানেই পানি ঢেলে বাঁকা লাইন ঠিক করে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। লাইনের ওপর পর্যাপ্ত পানি ঢাললে লাইন স্বাভাবিক হয়। মূলত তীব্র রোদে বিশেষ করে লাইনে ফাঁকা স্থানগুলো ভরাট হয়ে যায়। ফলে লাইন বেঁকে যায়। নির্দিষ্ট স্থানে লাইনের ফাঁকা রাখতে হয়। আর ফাঁকা স্থানটুকু খুবই সামান্য। যখন তীব্র রোদে লাইন গরম হয়ে উঠে তখন ফাঁকা স্থানটুকু ভরাট হয়ে পুরো লাইনটি আঁকাবাঁকা হয়ে পড়ে।
সূত্র জানায়, চলতি গ্রীষ্মে তীব্র রোদে প্রায়ই রেললাইন বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুকুন্দপুরে গত বুধবার ২-৩ টি স্থানে লাইন বাঁকা হয়ে গেলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় বাঁকা স্থানে পানি ঢেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। তখন ঢাকা-সিলেটগামী আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসকে প্রায় ১ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরেও বেশ কয়েকটি স্থানে লাইন বাঁকা হয়ে যায়। তবে রেলের দায়িত্বশীলদের মতে, তীব্র রোদে রেললাইন বাঁকা হওয়ার ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের আতঙ্কের কিছু নেই। এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে তীব্র রোদে যখন লাইন বেশি বাঁকা হয়ে পড়ে তখন ট্রেনের গতি কমিয়ে কিংবা কখনও কখনও দাঁড় করিয়ে বাঁকা স্থান স্বাভাবিক করে ট্রেন চালানো হয়।
এ প্রসঙ্গে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল হাই জানান, মূলত এমন ঘটনাটি ঘটছে তীব্র রোদের কারণে। বাঁকা লাইন যথাযথ মেরামত না করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেন চালাচ্ছে না। ইতিমধ্যে সিলেট লাইনের বেশ কয়েকটি স্থানে লাইন বাঁকা হয়ে যাওয়ায় ওই লাইনসহ পূর্বাঞ্চল রেলপথে টহল বাড়ানো হয়েছে।


