জামায়াতের ভুল এবং ফরীদ মাসঊদ চেতনার সাফল্য

জামায়াতের ভুল এবং ফরীদ মাসঊদ চেতনার সাফল্য

আশিক মুহাম্মদ : আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাত বারাকাতুহুমের নামটা এলেই জামায়াতে ইসলামীর নামও আসে। জামায়াতী চেতনা হলো দেওবন্দী চেতনার বিরোধী। দেওবন্দীরা কখনোই এই জামায়াতকে, জামায়াতী চেতনাকে নিজের করে নিতে পারেনি। বাংলাদেশে অনেকটা একক জামায়াতবিরোধী আলেম হিসেবে যুগপৎ নেতৃত্ব দিয়েছেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। সমগ্র দেওবন্দীদের চেতনা জামায়াতবিরোধী হলেও হাটে এসে হাঁড়ি ভাঙতে চাননি অনেকেই।

ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ একজনই, যিনি পূর্বপশ্চিম দেখেননি, আকাবির চেতনায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে জামায়াতপথভ্রষ্টতাকে জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য বার বার স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। কোনোক্রমেই জামায়াতের সঙ্গে আপস করেননি। দেশের সব পানি একজায়গায় মিশে গেলেও তুমুল সমালোচনার মুখেও নিজেকে আলাদা করে বুঝিয়েছেন বাতিল বাতিলই। এদের সঙ্গে কোনো আপস চলে না। চলমান রাজনীতির মুখে কেউ কেউ আপস করলেও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একমাত্র চাকরিটাও ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। আপসে গলে যাননি তিনি। গত তিন যুগে আপসে আপসে কতজন কতকিছু করেছে তা আমাদের সামনে আয়নার মতোই পরিষ্কার।

স্মরণ করার মতো মাওলানা তাজাম্মুল আলী রহ., মুফতী নুরুল্লাহ রহ., মাওলানা কাজি মুতাসিম বিল্লাহ রহ. কখনো জামায়াতী ইসলামের সঙ্গে আপস করেননি। সে ধাররই উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের আন্দোলন এখন মওদুদীরাও বুঝতে পারছে। নিজেদের ভুল বুঝে ক্ষমা প্রার্থনা করছে। নিজেদের গতি ও চলার পথ ভুল ছিল দাবি করে বেশ কয়েকজন পদত্যাগও করছে। এটা আলেমদের আন্দোলনের ফসল। মুক্তিযুদ্ধ, দেশ ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিটিতেই জাময়াতের কলুষিত অবস্থান।

আমরা জানি, আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করে তার জীবন সঠিক পথে পরিচালনার জন্য যুগে যুগে প্রেরণ করেছেন লক্ষাধিক নবী ও রাসূল। নববী কাননের সর্বশেষ ফুল ছিলেন আমাদের নবী সায়্যিদুল মুরসালিন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি মানুষকে শুনিয়েছেন আল্লাহ তা’য়ালার ঐশী বাণী। তৈরী করেছেন সাহাবায়ে কেরামের সুমহান জামাত কে। কেয়ামত পর্যন্ত আগত উম্মতের জন্য মুক্তির পথ হিসেবে দিয়ে গেছেন কুরআন ও সুন্নাহ।

কিন্তু নির্মম সত্য হল বাতিল কখনো বসে থাকে না। তাই কুরআন ও হাদিসের বিকৃতিকারিরাও বসে ছিল না কোন যুগে। সব সময় তারা কুরআন ও হাদিসকে বিকৃত করার প্রয়াস চালিয়েছে জোরে সোরেই। কিন্তু আল্লাহ যেহেতু নিজে হেফাযত করার দায়িত্ব নিয়েছেন, তাই তারা শত চেষ্টা স্বত্ত্বেও বার বার ব্যর্থ হয়েছে। যখন হক এসেছে বাতিল দূরীভূত হয়েছে।

দ্বীন বিকৃতির ধারাবাহিকতায় মওদূদীর হাতে সৃষ্টি হয় আজকের জামায়াতে ইসলামি। যাদের সৃষ্টির শুরুই হয়েছিল, সাহাবায়ে কেরামের তিরষ্কার, রাসূলের রিসালতের দায়িত্বের উপরে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে, কেবল এটুকুই নয় স্বয়ং আল্লাহ তা’ য়ালাকে জালেম বলতেও তারা দ্বিধা করেনি। (নাউযুবিল্লাহ)

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানি হায়েনাদের জন্য বাংলাদেশি নারীদেরকে ধর্ষণের জন্য সাহায্য করেছে। হাজার হাজার মুক্তিকামী বাহিনীকে এদের কথায় শহীদ করা হয়েছে। আর তার সবই তারা করেছিল দ্বীনের অপব্যখ্যা করে।

জামায়াতে ইসলামী ইসলামী দল নয় এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করার জন্য জাতির কাছে তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ উক্ত কথাগুলি গত কয়েক দশক ধরে বলে আসছিলেন শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা. বা.। তিনি জামায়াতে ইসলামের তরুণদের উদ্দেশ্য করে বার বার হকের প্রতি ফিরে আসার আহবান জানিয়েছেন।

ইদানীং জামায়াতে ইসলামীর কয়েক জন বড় নেতা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করায় বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে। বিশেষত আইনজীবী আবদুর রাজ্জাকের পদত্যগ সর্বমহলে বিশেষভাবে নাড়া দেয়। পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় তাদের ক্ষমা না চাওয়াই অন্যতম একটা কারণ। তার মতে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু কিছু মানুষের গোয়ার্তুমির কারণে তা সম্ভব না হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।

আমরা চাই তিনি যেমন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় জামায়াত থেকে বের হয়ে এসেছেন তদ্রুপ তাদের দ্বীনের বিকৃতি সম্পর্কেও যেন তিনি ওয়াকিফহাল হোন। সাথে সাথে আল্লামা ফরীদ ঊদ্দীন মাসউদ দা. বা. এর কথার উপর ভিত্তি করেই শিবিরের তরুণ কর্মীদের উদাত্ব আহবান জানাই ফিরে এসো! আল্লাহর পথে , দ্বীনকে সঠিকভাবে বুঝে ফিরে এসো বাতিলের পথ থেকে। আল্লাহ ক্ষমাশীল। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন। আমীন।

লেখক : রাজনীতি ও ধর্মীয় বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *