আমি সেই কাঁচা আমের বালক হয়ে যাই
মুস্তাফা জামান আব্বাসী : সব বাঙালির মনে একই ভাবনা। কি সে ভাবনা? আম, জাম, কাঁঠাল, আমরুল, জামরুল, লিচু, পেয়ারা, আমলকি। সবগুলো ফল চোখের সামনে এসে পড়ে। যেন ওগুলো না হলে এ জীবন অর্থহীন। ছেলেমেয়েদের জিজ্ঞেস করেছি সবচে’ ভাল কি? বলে, আম। মেয়েদের বরই। পকেট থেকে যখন একটি বরই বের করে দি’, তখন তাদের মুখ যেন আনন্দে ভরে উঠে। তাই আমি মাঝে মাঝে টাটকা ফল রাখি আমার ঘরে।
ছেলেমেয়েদের খুশি করার সবচে’ বড় অস্ত্র। আমাকে খুশি করার সবচে’ বড় অস্ত্র কাঁচা আম। বাজার থেকে যখন প্রথম নিয়ে আসি, আমার স্ত্রী সবচে’ খুশি হন কাঁচা আম দেখে। কাঁচা আমের সঙ্গে ডাল। আহ!
আমেরিকায় যাওয়ার সময় কোন ফল নিতে দেয় না। চুরি করে নেয়া যায়। একবার নিয়ে পঞ্চাশ ডলার ফাইন দিয়েছিলাম। যে ফাইন করল, তাকে বললাম, ফলটি তোমার বৌটিকে গিয়ে দিও। তা হলে সে বুঝবে বাংলার আম কাকে বলে? সে বলল, আমার চাকুরী চলে যাবে। আমি দিতে পারব না। তবে আমি একটি কাজ করতে পারি, যা আর কেউ করে নি। আমি প্রথম আমেরিকান কাষ্টমসের লোক এই আম এবং লিচু ক্লিয়ার করে দিলাম, আমার নামটি দয়া করে মনে রেখ না। আমি তার নামটি সত্যি লিখে রাখি নি। কিন্তু হৃদয়ে লিখে রেখেছি।
একদিন আমরা তিন চার জনে জাম গাছ খুঁজে পেলাম। এত টসটসে ও বড় জাম কোথাও হয় না। আমেরিকায় পড়ে আছে। আমরা অনেক জাম সংগ্রহ করলাম। পরের বছর গিয়ে দেখি সব জাম গাছ সাফ।
আমার মেয়ের দশবারটি আমের গাছ। বড় বড় পাখিরা এসে তাদের চোখ রাঙায়, বলে, আমাদের আম তোমরা খেতে এসেছ। এ তো আমাদের অধিকার। তোমাদের নয়। সত্যিই তো তাই। ফ্লোরিডায় যত আম খেয়েছি বাংলাদেশে তার চেয়ে কম। আমেরিকায় গত বছর পৃথিবীর সবচে’ ভাল আম আবিষ্কার হয়েছে। আমটির নামই মালয়েশিয়া। সমস্ত পৃথিবীতে পরিচিত চওসা আম। আমি একবার বিশটি আম পেয়েছিলাম। যখের ধনের মত রোজ একটা করে খেতাম। এত মিষ্টি আম পৃথিবীতে হ্য় না। একটি আমের জন্যে আমার গাড়িটি দিয়ে দিতে পারি। অবশ্য এটা আমার সেকেন্ড কার।
যখন কোন গ্রাম্য বালকের কাঁচা আম মুখে কোন ছবি সামনে পড়ে আমি সেই বালক হয়ে যাই। আমি সেই আমের মূল্য বুঝি।
মু. জা. আ.
১৭ই বৈশাখ, ১৪২৬


